শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ভেঙে যেতে পারে তৃণমূল, মমতার হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২ জুন ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সংগৃহীত: ছবি
সংগৃহীত: ছবি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির ওপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণ আলগা হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং এমনকি দলীয় প্রতীক ‘জোড়া ফুল’ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের অন্তত ৫০ জন বিধায়ক দল থেকে বেরিয়ে গিয়ে আলাদা একটি গ্রুপ গঠনের পরিকল্পনা করছেন বলে চাঞ্চল্যকর দাবি উঠেছে। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তৃণমূলের সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া জাতীয় মুখপাত্র ঋজু দত্ত ইন্ডিয়া টুডেকে জানিয়েছেন, প্রায় ৫০ জন বিধায়ক বর্তমানে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ খুঁজছেন। দলত্যাগবিরোধী আইন এড়াতে তাদের প্রয়োজন অন্তত ৫৩ জন বিধায়কের সমর্থন (তৃণমূলের বর্তমান ৮০ জন বিধায়কের দুই-তৃতীয়াংশ)। ঋজু দত্তের দাবি, এই বিদ্রোহীরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের নেতা হিসেবে মেনে নিয়ে ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দলীয় প্রতীকের দাবি করার কথা ভাবছেন।

এদিকে সোমবার দক্ষিণ কলকাতার একটি হোটেলে কয়েকজন বিধায়ক গোপন বৈঠক করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ। তিনি দাবি করেন, বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা এই চক্রান্তের মূলে রয়েছেন। যদিও ঋতব্রত এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং কুনাল ঘোষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে তিনি দলের ভেতরের অস্থিরতা লুকাতে পারেননি। এবিপি আনন্দকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ঋতব্রত বলেন, ‘তৃণমূল বিলুপ্তির পথে। এই দল আর টিকবে না। দলে কথা বলার কোনো জায়গা নেই।’

বিদ্রোহের এই আভাস আরও স্পষ্ট হয় গত রোববার। মমতার ডাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ দলীয় বৈঠকে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৬০ জনই অনুপস্থিত ছিলেন। যদিও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব একে গুরুত্ব না দেয়ার চেষ্টা করছে, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুকে লাইভে এসে অভিযোগ করেছেন যে তাঁর দলের বিধায়কদের পুলিশি চাপ দেয়া হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। কুনাল ঘোষ হাতজোড় করে বিধায়কদের অনুরোধ করেছেন যেন তাঁরা ‘ভুল পথে’ পা না দেন।

আরও পড়ুন

অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে নেপালে ১৫ বাংলাদেশি গ্রেফতার

দলের ভেতরের এই সংকটের মূলে রয়েছে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করলেও নব্য নির্বাচিত অনেক বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে ছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়া বিরোধী দলনেতা নির্বাচনে বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে মুখ খোলায় ঋতব্রত ও সন্দীপনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ১৮ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের আগেই তৃণমূলের এই অস্থিরতা চূড়ান্ত রূপ নিতে পারে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে বলেছেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পরও সাধারণ সম্পাদককে সবাই ‘দাঁড়িয়ে অভিবাদন’ জানাবে—এমন পরিবেশেই দল চালানো হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, মহারাষ্ট্রের উদ্ধব ঠাকরে বা শরদ পাওয়ারের মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কি তাঁর নিজের গড়া দল ও প্রতীকের নিয়ন্ত্রণ হারাবেন?

ভোরের আকাশ/এনএস

তৃণমূল কংগ্রেস

শেয়ার করুন: