ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আগে অস্ত্র ছাড়বে না হামাস

গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আগে কোনো অবস্থাতেই অস্ত্র সমর্পণ করবে না উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস। এমনটাই জানিয়েছেন সংগঠনটির অন্যতম মুখপাত্র ও আলোচক দলের সদস্য গাজী হামাদ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাজী হামাদ বলেন, “ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে পুরোপুরি সরে না যাওয়া পর্যন্ত অস্ত্র সমর্পণের বিষয়ে হামাস কোনো পদক্ষেপ নেবে না।”
তিনি আরও বলেন, “অস্ত্র সমর্পণের পুরো প্রক্রিয়া অবশ্যই ফিলিস্তিনের একটি জাতীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের কোনো ভূমিকা গ্রহণযোগ্য নয়।”
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, কায়রোতে যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর, কাতার ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার সময় হামাস অস্ত্র সমর্পণ-সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে সম্মত হয়েছে।
ট্রাম্প ওই পোস্টে হামাসের এই সিদ্ধান্তকে ‘অবিস্মরণীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে হামাসকে এ পর্যায়ে আনতে ভূমিকা রাখার জন্য মিসর, কাতার ও তুরস্কের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
ট্রাম্পের ওই পোস্টের পর বিষয়টি নিয়ে আল জাজিরা হামাসের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে গাজী হামাদ বলেন, হামাস অস্ত্র সমর্পণ-সংক্রান্ত চুক্তির একটি খসড়া হাতে পেয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাক্ষর করবে কি না, সে বিষয়ে এখনো মধ্যস্থতাকারীদের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়। এর জবাবে পরদিন ৮ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। দীর্ঘ এই সংঘাতে গাজায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি উদ্যোগের ভিত্তিতে ইসরায়েল ও হামাস যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। বর্তমানে সেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র : আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি
ভোরের আকাশ/সু.পা