ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি সকালে ব্রিটিশ রাজাকে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্টারমার জানান, তিনি লেবার পার্টির জাতীয় নির্বাহী কমিটিকে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণের অনুরোধ করেছেন। ওই সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ৯ জুলাই থেকে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং তা গ্রীষ্মকালীন অবকাশের আগেই শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তবে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে বহাল থাকবেন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ব্রিটেনের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা সাধারণত প্রধানমন্ত্রী হন। বর্তমানে পার্লামেন্টে লেবার পার্টির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও দলীয়ভাবেই সম্পন্ন হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত কয়েক মাস ধরেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নির্বাচনী ফলাফল তার অবস্থানকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে।
এর আগে রোববার ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘অবজারভার’ জানায়, পদত্যাগের বিষয়ে তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা দ্রুত তার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রত্যাশা করছিলেন।
গত শুক্রবার স্টারমার বলেছিলেন, তার নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করা হলে তিনি তা মোকাবিলা করবেন এবং দলকে অভ্যন্তরীণ বিভাজন থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
২০২৪ সালে তার নেতৃত্বে লেবার পার্টি বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়। তবে দুই বছরের মধ্যেই তার জনপ্রিয়তায় পতন দেখা যায় বলে বিভিন্ন জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক ভোটার মনে করছেন, জীবনমান উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা প্রত্যাশিতভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। সূত্র: বিবিসি
ভোরের আকাশ/সু.পা