পশ্চিম তীরে ৯ হাজারের বেশি উচ্ছেদ ও কাজ বন্ধের নোটিশ ইসরায়েলের

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ২০১৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের বিভিন্ন স্থাপনার ওপর ৯,৫১৮টি উচ্ছেদ ও নির্মাণকাজ বন্ধের নোটিশ জারি করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনের সরকারি সংস্থা ‘ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশন’ তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব নোটিশের কারণে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদের ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি নতুন বাড়ি নির্মাণ, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ এবং জীবিকা নির্বাহেও বাধার মুখে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ফিলিস্তিনের ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৯ হাজার ১৭৪টি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে দেওয়া হয়েছে আরও ৩৪৪টি নোটিশ।
সবচেয়ে বেশি নোটিশ হেবরনে
ফিলিস্তিনি কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ ও নির্মাণকাজ বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নোটিশ পেয়েছে হেবরন। এ এলাকায় নোটিশের সংখ্যা ২ হাজার ৬৯৭টি।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বেথলেহেম। সেখানে ১ হাজার ৩১০টি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রামাল্লাহ ও আল-বিরেহ এলাকায় ১ হাজার ১১৮টি এবং জেরুজালেমে ৯২৯টি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বছরভিত্তিক হিসাবে ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি নোটিশ দেওয়া হয়। ওই বছর নোটিশের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৩৩। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭০১।
কমিশন জানিয়েছে, তাদের হিসাব সব নোটিশের পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়। কমিশন এবং সহযোগী আইনি সংস্থাগুলোর নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।
প্রায় ১২ হাজার স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার তথ্য
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দপ্তর (ওসিএইচএ) বলছে, একই সময়ে পশ্চিম তীরে প্রায় ১২ হাজার স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এসব স্থাপনার মধ্যে ১ হাজার ৬৯৮টি বিভিন্ন দাতা সংস্থার অর্থায়নে নির্মিত হয়েছিল।
ওসিএইচএর তথ্য অনুযায়ী, এসব স্থাপনা ধ্বংসের কারণে ১৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৮ লাখ ৪৩ হাজার মানুষ।
উচ্ছেদের নোটিশ কেন?
ওসিএইচএর তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন কারণে ফিলিস্তিনিদের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্মাণ অনুমতি না নেওয়া, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং সামরিক অভিযান চলাকালে স্থাপনা ধ্বংস করা।
উচ্ছেদ ও নির্মাণকাজ বন্ধের নোটিশের কারণে অনেক পরিবার নিজেদের বাড়িঘর হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।
একই সঙ্গে নতুন বাড়ি নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে।
ফিলিস্তিনি কমিশনের মতে, এসব পদক্ষেপ শুধু বাড়িঘর নির্মাণেই বাধা তৈরি করছে না, বরং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলছে।
ভোরের আকাশ/আ.র