যুদ্ধবিরতির আগে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত ২৭

ইউক্রেইন-এর পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার একাধিক হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছে। প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই এসব হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) মধ্যরাতের পর কিইভ থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একটি হামলাতেই ১২ জন নিহত হয়েছে, যা চলতি বছরের অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইউক্রেইনের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিজিয়া শহরে বোমা ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও আরও ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন গভর্নর ইভান ফেদোরোভ।
উত্তরপূর্বাঞ্চলের ক্রামতোর্স্ক শহরে তিনটি এরিয়াল বোমা হামলায় ছয়জন নিহত ও ১২ জন আহত হন। এছাড়া দনিপ্রো শহরে হামলায় তিন থেকে চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পোলতাভা অঞ্চলের একটি গ্যাস স্থাপনায় হামলায় পাঁচজন নিহত হয়। পাশাপাশি খারকিভ অঞ্চলেও হামলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পরপরই রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ক্রাইমিয়া উপদ্বীপের ঝানকোই শহরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় পাঁচ বেসামরিক নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। যদিও ধারণা করা হচ্ছে, এই হামলাটি যুদ্ধবিরতি শুরুর আগেই চালানো হয়েছিল।
এর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের জয়ের বার্ষিকী উপলক্ষে ৮ ও ৯ মে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় রাশিয়া। এ সময় মস্কোর রেড স্কয়ারে সামরিক কুচকাওয়াজ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেন, ব্যাপক হামলার পর কেবল আনুষ্ঠানিকতার জন্য স্বল্প সময়ের যুদ্ধবিরতি কোনো সমাধান নয়।
ইউক্রেইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহাও অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত রাশিয়ার পক্ষ থেকে শত্রুতা বন্ধের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি; বরং হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তারা ক্রাইমিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ৯৩টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা