সৌদির বিমানবন্দরে আবারও হুথিদের হামলা, নিহত ৩

সৌদি আরবের দুটি প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পৃথক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ৩ জন নিহত এবং অন্তত ৩৬ জন আহত হয়েছেন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এতে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের একটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিমানবন্দরের ওপর ধোঁয়ার কুণ্ডলী ওঠে। এতে অনেক এয়ারলাইন রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে। কয়েক দিন পরই সৌদি রাজধানীতে বিশ্বের তেল-প্রধানদের একটি বড় বৈঠকের আয়োজন হওয়ার কথা।
হুথি কর্মকর্তা ও তাদের সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাতভর ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুথি লক্ষ্যবস্তুতে সৌদি বিমান হামলা হয়েছে। ইরান-মিত্র গোষ্ঠীটির সাম্প্রতিক ভূখণ্ডগত অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে হুমকি এবং সৌদি আরবে হামলা ঠেকাতে ক্রমে তীব্র হওয়া আকাশযুদ্ধের অংশ এটি।
ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুথিদের ব্যবহৃত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের স্থান ধ্বংস করা হয়েছে। বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে জোট।
ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজে সরকারি বাহিনীকে ঘিরে ফেলেছে হুথিরা। লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি-সমর্থিত আক্রমণের বিরুদ্ধে অবস্থান রক্ষারও চেষ্টা করছে তারা। এই সপ্তাহের শুরুতেই সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলায় তারা তিন জনকে হত্যা করেছে।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দরে আকাশপথের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এ দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু এয়ারলাইনসহ ধীরে ধীরে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। সৌদিয়া এয়ারলাইনস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার নিহতদের একজন তাদের কর্মী।
গত মাসে হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ধরে ঝটিকা অভিযানে প্রণালির আশপাশের পুরো উপকূলরেখার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এতে দীর্ঘদিন সুপ্ত থাকা সংঘাতে ফের জড়িয়ে সরকারি বাহিনীর পাল্টা অভিযানকে সমর্থন দেয় সৌদি আরব।
সোমবার তীব্র সৌদি বিমান হামলার পর সরকারি বাহিনী বাব আল-মান্দেব উপকূলরেখার আশপাশের ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করে। সেখানে লড়াই এখনও চলছে।
এক দশকের বেশি সময় ধরে ইয়েমেনে সৌদি আরবের তৎপরতা পরিচালনাকারী দেশটির রাষ্ট্রদূত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, বাব আল-মান্দেব হুথিমুক্ত করা হয়েছে। রয়টার্স তা যাচাই করতে পারেনি। উপকূলের কিছুটা ওপরে মোখায় হুথি বাহিনী এখনও রয়েছে। সরকারি বাহিনী এখন কাছের পাহাড়ি এলাকায় লড়াইয়ে নজর দিচ্ছে, যেখান থেকে অঞ্চলটি দেখা যায়।
ভোরের আকাশ/আ.র