শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ইউরোপজুড়ে অস্ত্র কারখানায় গুপ্ত হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী কারখানায় নতুন করে নাশকতামূলক হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। এসব হামলায় সরাসরি মস্কোর সম্পৃক্ততার প্রমাণ না রেখে স্থানীয় অপরাধী চক্রকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া কতটা কঠোর হতে পারে, তা পরীক্ষা করতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে। হামলাগুলো এমনভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ৫ নম্বর ধারা কার্যকরের মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

সম্প্রতি প্রতিবেশী এস্তোনিয়ায় একটি ড্রোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় লাটভিয়ার তিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১৫ আগস্ট রাতে তাল্লিনভিত্তিক মিলরেম রোবোটিকসের একটি ভবনে আগুন দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করে।

ঘটনার পর এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিখাল জানিয়েছিলেন, এটি নাশকতা কি না এবং এর সঙ্গে রাশিয়ার কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মিলরেম রোবোটিকসে অগ্নিসংযোগকে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ভূখণ্ডে ইউক্রেনের সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে নাশকতার বৃহত্তর ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এক ন্যাটো কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া সাইবার হামলা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জোটের সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা তৈরির প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে।

অপরাধী চক্রকে ব্যবহার করছে রাশিয়া

পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়ার হাইব্রিড যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য হলো ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ানো এবং ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন দুর্বল করা।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ইউরোপজুড়ে একের পর এক রহস্যজনক হামলা ও নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। চলতি মাসেই ইতালি ও বুলগেরিয়ার বড় অস্ত্র কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে ইউক্রেনের জন্য ড্রোন ও তাপ শনাক্তকারী যন্ত্র তৈরি করা চেক প্রজাতন্ত্রের একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সেটি প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। রাশিয়ার সম্পৃক্ততার অভিযোগে ওই ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছিল।

লিথুয়ানিয়ায় কিয়েভকে বেতার তরঙ্গ শনাক্তকারী যন্ত্র সরবরাহ করা একটি কারখানায় আগুন দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গত ১০ আগস্ট বুলগেরিয়ার অন্যতম বড় বেসরকারি অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমকোর একটি কারখানায় বড় বিস্ফোরণ ঘটে। প্রতিষ্ঠানটি ইউক্রেনের জন্য ১৫৫ মিলিমিটার কামানের গোলা তৈরি করে। একটি গুদামের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে আগুন লাগার পর বিস্ফোরণটি ঘটে।

এর তিন দিন পর রোমের উপকণ্ঠে কোলেফেরোর একটি গোলাবারুদ কারখানায় একই ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে কেএনডিএস অ্যামো ইতালি। সেখানে গানপাউডার প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিটে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত বলে জানানো হয়।

ইতালি ও বুলগেরিয়ার কর্মকর্তারা এসব ঘটনায় রাশিয়ার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি। তবে গোয়েন্দাদের মতে, মস্কো সাধারণত এমন কোনো প্রমাণ রেখে যায় না, যার মাধ্যমে সরাসরি এসব হামলার দায় রাশিয়ার ওপর চাপানো যায়।

পশ্চিমা গোয়েন্দাদের এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ আগে বিদেশে হামলা চালাতে প্রশিক্ষিত এজেন্টদের ব্যবহার করলেও এখন স্থানীয় অপরাধী চক্রকে কাজে লাগানোর দিকে ঝুঁকেছে।

লাটভিয়ার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান নরমুন্দস মেজভিয়েটস গত মার্চে দ্য টেলিগ্রাফকে বলেছিলেন, তাদের অভিজ্ঞতায় জিআরইউ কর্মকর্তাদের সরাসরি লাটভিয়ায় আসতে দেখা যায় না। তারা রাশিয়াতেই অবস্থান করে এবং অনলাইনে স্থানীয় অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

জানা গেছে, জিআরইউ কর্মকর্তারা টেলিগ্রামের মতো বার্তাপ্রেরণ অ্যাপের মাধ্যমে অপরাধী চক্রে নিজেদের যোগাযোগ তৈরি করেন। পরে এসব মধ্যস্থতাকারী লক্ষ্যবস্তু দেশে স্থানীয় লোকজনকে হামলার কাজে নিয়োগ দেয়। তাদের অনেককে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ দেওয়া হয় এবং তারা কখনোই জানতে পারে না যে তারা আসলে রাশিয়ার হয়ে কাজ করছে।

ন্যাটোর মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চায় মস্কো

পশ্চিমা গোয়েন্দাদের মতে, হামলাগুলোর গোপনীয় চরিত্রই রাশিয়ার কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি করা হচ্ছে।

পোল্যান্ড ও বাল্টিক দেশগুলোর মতো পূর্ব ইউরোপের ন্যাটো সদস্যরা ইউরোপে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে বেশি সোচ্চার।

এস্তোনিয়ার কারখানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় লাটভিয়া রাশিয়াকে সরাসরি দায়ী না করলেও আটক তিন ব্যক্তিকে এমন আইনের আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যে আইন বিদেশি কোনো রাষ্ট্রকে অন্য একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডে সহায়তার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে ইতালি ও জার্মানির মতো পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো মস্কোর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলতে অনেক বেশি সতর্ক। কারণ তারা আশঙ্কা করছে, এতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

আর ন্যাটোর ভেতরের এই বিভাজনই রাশিয়া কাজে লাগাতে চাইছে বলে মনে করছেন পশ্চিমা কর্মকর্তারা।

ন্যাটোর সীমা কতটা, তা যাচাই করছে রাশিয়া?

রাশিয়া ও জার্মানির মধ্যে গ্যাস সরবরাহকারী নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে বিস্ফোরণের পর ইউরোপের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছিলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ৫ নম্বর ধারা কার্যকরের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

কিন্তু তুলনামূলক ছোট পরিসরের নাশকতার ঘটনা বাড়তে থাকায় একই কর্মকর্তারা এখন অনেক বেশি সতর্ক।

গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি হামলার পর রাশিয়া পর্যবেক্ষণ করছে ন্যাটো কতটা প্রতিক্রিয়া দেখায়। কোনো হামলার পর কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে মস্কো বুঝতে পারছে, জোটের সীমা কতটা পর্যন্ত ঠেলে দেওয়া সম্ভব।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে প্রায়ই রাশিয়ার কথিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডকে বেপরোয়া ও বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেন। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জোটের প্রতিক্রিয়া দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

এক ন্যাটো কর্মকর্তা বলেন, জোটটি হাইব্রিড কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা ও প্রতিরোধব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে। সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রক্সির মাধ্যমে পরিচালিত ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডও তারা পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি বলেন, যে কোনো হুমকি মোকাবিলা এবং জোটের প্রায় ১০০ কোটি মানুষকে নিরাপদ রাখতে ন্যাটো সব সময় প্রস্তুত থাকবে।

রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের পুরোনো পথও বন্ধ

স্নায়ুযুদ্ধের সময় ইউরোপের কূটনীতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা মস্কোর সঙ্গে গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করতেন। দুই পক্ষই জানত, কেউই সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চায় না। কিন্তু ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পরবর্তী বছরগুলোতে সেই গোপন যোগাযোগের অনেক পথই বন্ধ হয়ে গেছে।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের মতে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ন্যাটোর বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের জন্য রাশিয়া প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপজুড়ে চলমান কথিত হাইব্রিড হামলাকে বড় সংঘাতের সম্ভাব্য পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন পশ্চিমা কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন

মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা নিয়ে বড় সুখবর

যে নাশকতা একসময় রাশিয়ার সীমান্তবর্তী পূর্ব ইউরোপেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন ধীরে ধীরে পশ্চিমের দিকেও ছড়িয়ে পড়ছে। ন্যাটো ও মস্কোর মধ্যকার সংঘাতের নতুন বাস্তবতা হিসেবে এমন হামলা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ

ভোরের আকাশ/এনএস

অস্ত্র কারখানাগুপ্ত হামলারাশিয়া

শেয়ার করুন: