২০৪৭ সালের মধ্যে গুরুগ্রামের জলাবদ্ধতা দূর হবে, বিজেপি সাংসদের আশ্বাস

গুরুগ্রামকে বলা হয় মিলেনিয়াম সিটি অব ইন্ডিয়া। কয়েক দশক আগেও গুরুগ্রাম ছিল একটি ছোট শহর। কিন্তু চলতি শতকের শুরুতে রকেটগতিতে পাল্টে যায় একসময় গুরগাও নামে পরিচিত আজকের আলো ঝলমলে গুরুগ্রামের চেহারা।
অত্যন্ত দ্রুত নগরায়ণ, আধুনিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সব মিলে গুরুগ্রাম এখন চোখ ধাঁধানো এক আধুনিক শহর। দিল্লি এনসিআররের গুরুত্বপূর্ণ অংশ গুরুগ্রাম এখন ভারতের অন্যতম বৃহত্তম করপোরেট ও আইটি হাবে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ফরচুন ৫০০ কোম্পানির ২৫০টিরও বেশি স্থানীয় অফিস বা সদর দপ্তর এখানে অবস্থিত।
উচ্চ জীবনযাত্রার মান ও আধুনিক লাইফস্টাইলের গুরুগ্রামে রয়েছে ৪০টিরও বেশি আধুনিক শপিং মল, বিশ্বমানের হাসপাতাল, থিয়েটার কমপ্লেক্স এবং পাঁচতারা হোটেল। এখানকার জমির দাম বেড়েছে সুপারসনিক গতিতে। কিস্তু সব উন্নয়ন থমকে দাড়ায় সামান্য বৃষ্টিতে। জলাবদ্ধতা আধুনিক এই শহরের সবচেয়ে বড় সংকট।
গত সোমবারের কয়েক ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে ডুবে যায় গোটা গুরুগ্রাম। যানজট-জলজট মিলে ঝলমলে গুরুগ্রামে পরিণত হয় নরকে। জলাবদ্ধতার সমাধান কী? এটাই এখন গুরুগ্রামের মানুষের কাছে সবচেয়ে দামি প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তরে হরিয়ানার বিজেপি সাংসদ ও রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ধর্মবীর সিং যা বলেছেন, তাতে সবার মাথায় হাত।
মিলেনিয়াম সিটির মানুষের এই সমস্যাগুলো কবে দূর হবে জানতে চাওয়া হলে এই সাংসদ বলেন, ২০৪৭ সালের নতুন মাস্টারপ্ল্যানে ভবিষ্যতের চাহিদা অনুযায়ী শহরের উন্নয়ন করা হবে। তখন সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে।
তার আশ্বাস যদি সত্যিও হয়, তাহলেও গুরুগ্রামের মানুষকে আরো ২১ বছর জলাবদ্ধতার সাথে বসত করতে হবে। ধর্মবীর সিংয়ের ছলের কোনো অভাব নেই। সরকার ছাড়া জলাবদ্ধতার জন্য সবাইকেই দায়ী করেছেন তিনি।
তার অজুহাতের বহর অনেক লম্বা—এখন হঠাৎ এবং ভারি বৃষ্টি হয়, আমরা অনুমান করতে পারিনি গুরুগ্রাম এতটা বড় হয়ে উঠবে, গুরুগ্রামে এখন অতিরিক্ত মানুষ এবং গাড়ি, ৬০ বছর আগে তৈরি করা পরিকল্পনাটি অপর্যাপ্ত ছিল, ২০৪৭ সালের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে, সরকারের কোনো দোষ নেই ইত্যাদি ইত্যাদি।
হরিয়ানার ভিওয়ানি-মহেন্দ্রেগড়ের এলাকার বিজেপি সাংসদ ধর্মবীর সিং জোর দিয়ে বলেন, কর্তৃপক্ষ যানজট এবং জলাবদ্ধতা যাতে না হয় তা নিশ্চিত করতে কঠোর পরিশ্রম করে। তবে সবকিছু করা সম্ভব নয়।
তার মতে, ত্রুটিটি রয়েছে ৬০ বছর আগের গুরুগ্রামের পরিকল্পনায়। যখন পরিকল্পনাবিদরা বুঝতে পারেননি যে শহরটি এই গতিতে বড় হবে।
তিনি বলেন, আমরা জানতাম না যে এত মানুষ, বাড়িঘর এবং যানবাহন গুরুগ্রামে আসবে।
তিনি আরও বলেন, নির্মাণকাজের কারণে পুরোনো ড্রেনগুলো সংকুচিত হয়ে গেছে। আমরা এখন আর সেগুলো চওড়া করতে পারছি না।
ধর্মবীর সিং বৃষ্টির তীব্রতা এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনকেও দায়ী করে বলেন, আজকাল হঠাৎ এবং ভারী বৃষ্টিপাত হয়। জল জমে যায় এবং তা নেমে যেতে সময় নেয়।
চলতি বছর বর্ষার বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়া এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্কুল বাস আটকে থাকার মতো ভয়াবহ দৃশ্য শহরবাসী আবারও দেখলেও, এই সাংসদ সরকার এবং প্রশাসনকে দোষারোপ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, জল নিষ্কাশনের জন্য আমরা সাধ্যমতো কাজ করি।
গুরুগ্রামের বিজেপি সাংসদ রাও ইন্দ্রজিৎ সিংও গুরুগ্রামের এই সমস্যার জন্য বিজেপি সরকারের কোনো দায় দেখেন না। তিনি বরং দোষ ঠেলে দিলেন কংগ্রেস আমলের দিকে, গুরুগ্রামে বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতা হয়ে আসছে। এর প্রধান কারণ হলো পাহাড় থেকে যমুনায় জল নিয়ে যাওয়ার পুরোনো, ঐতিহ্যবাহী ড্রেনগুলোর ওপর উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। কংগ্রেস আমলে হওয়া সেই উন্নয়নের খেসারত আমরা আজও দিচ্ছি।
সমাধানের পথ বাতলেছেন ঈন্দ্রজিৎ সিং, এটি ঠিক করার একমাত্র উপায় হলো পুরোনো ড্রেনগুলোর পথ ধরে মেট্রোর মতো ভূগর্ভস্থ টানেল তৈরি করা, যাতে জলকে সেই আগের পথ দিয়েই প্রবাহিত করা যায়। আমরা বর্তমানে যা করছি তা মূলত একটি সাময়িক জোড়াতালি সমাধান মাত্র। এটি কিছুটা স্বস্তি দেয়, তবে আমরা যদি এক জায়গায় জল আটকে দিই, তবে তা অন্য জায়গায় পথ খুঁজে নেয়। সরকার এটি নিয়ে কাজ করছে এবং আমরা প্রয়োজনীয় ফান্ডের ব্যবস্থা করছি।
ভোরের আকাশ/এম