কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

১৯৯৬ সালে দুটি বেসামরিক বিমান গুলি করে ভূপাতিত করে চারজনকে হত্যার ঘটনায় কিউবার ৯৫ বছর বয়সী সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামির একটি আদালত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
ফ্লোরিডার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্তের পর আদালত এই সিদ্ধান্ত নেয়। রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কিউবার গুপ্তচরদের সঙ্গে মিলে এই হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র করেছিলেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, কিউবার গোপন সংস্থার দুজন সদস্য মায়ামির একটি সামাজিক সংগঠনে ছদ্মবেশে ঢুকে পড়েছিল। তারা বিমানের ফ্লাইট সংক্রান্ত গোপনীয় তথ্য কিউবা সরকারের কাছে পাঠাত। এমনকি বিমান দুটি ধ্বংস করার ঠিক আগের দিন এক গুপ্তচরকে ফ্লোরিডা থেকে কিউবায় ফিরিয়েও নেওয়া হয়। এসব প্রমাণের ভিত্তিতে মায়ামির আদালত কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার পেয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। সেদিন কিউবার যুদ্ধবিমান গুলি চালিয়ে দুটি ছোট বিমান ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে বিমানে থাকা চারজনই মারা যান। তাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন মার্কিন নাগরিক। কিউবার দাবি ছিল, বিমানগুলো তাদের সীমানায় ঢুকে পড়েছিল। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা তদন্ত করে জানায়, বিমানগুলো আন্তর্জাতিক আকাশসীমাতেই ছিল।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। নতুন এই পরোয়ানাটিকে ৩০ বছর আগের সেই ঘটনার বিচারের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রয়াত কিউবান নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউল কাস্ত্রো ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কিউবার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তৎকালীন সময়ে তিনি দেশের সামরিক বাহিনীর প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।
ভোরের আকাশ/আ.র