যুদ্ধবিরতির মধ্যেই বৈরুতে ইসরায়েলের বিমান হামলা

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে লেবাননের পরিস্থিতি। বুধবার (৬ মে) রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে মধ্যপ্রাচ্যের নাজুক শান্তি প্রচেষ্টা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেন, হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর অভিজাত রাদওয়ান ইউনিটের এক কমান্ডার। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে ওই কমান্ডার নিহত হওয়ার কথা বলা হলেও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি হিজবুল্লাহ বা লেবাননের সেনাবাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও আপাতত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। তিনি বলেন, লেবানন কেবল অস্থায়ী সমাধান নয়, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা চায়। এজন্য দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সুস্পষ্ট সময়সূচি প্রয়োজন বলে মনে করছে বৈরুত। একই সঙ্গে দেশের সব অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনও সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে কোনো ধরনের বৈঠকের পরিবেশ তৈরি হবে না।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কথা জানিয়ে চলতি বছরের মধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। তবে বৈরুতে নতুন করে হামলার ঘটনায় সেই সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শুরু থেকেই হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিরোধিতা করে আসছে। বিষয়টি লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিভাজন তৈরি করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করছে, উত্তরাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা লেবাননের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে।
তবে রাজধানী বৈরুতের কেন্দ্রঘেঁষা এলাকায় নতুন করে হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা