শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য বা এ ধরনের পণ্য আমদানির অভিযোগে ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক আদালতে (ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড) মামলা করেছে দেশটির ২৫টি অঙ্গরাজ্য। সোমবার (৩ আগস্ট) দায়ের করা এ মামলার খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

মামলার বাদী অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, ম্যাসাচুসেটস, ওয়াশিংটন, উইসকনসিন, পেনসিলভানিয়া ও কেন্টাকিসহ মোট ২৫টি অঙ্গরাজ্য। এর অধিকাংশই ডেমোক্রেটিক পার্টির শক্ত ঘাঁটি। যুক্তরাষ্ট্রে মোট অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা ৫০টি।

গত জুলাইয়ে ভারত, কানাডা, জাপান, নরওয়ে, তাইওয়ান, চীনসহ ৫৯টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য বাণিজ্যের অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড অ্যাক্ট অব ১৯৭৪-এর ৩০১ ধারার আওতায় ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন।

এর আগে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২ এপ্রিল নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই নীতির আওতায় ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ), ১৯৭৭-এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ ‘বেইসলাইন ট্যারিফ’ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ আরোপ করা হয়।

২০২৫ সালজুড়ে চীন, ভারত, কানাডা, মেক্সিকো ও ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের সময় এই ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ নীতিকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসন।

চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আইইইপিএ-ভিত্তিক শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেন। আদালত বলেন, ওই আইন ব্যবহার করে আরোপিত শুল্ক আইনসম্মত নয়। পরে ৭ মে একই যুক্তিতে ‘বেইসলাইন ট্যারিফ’ও বাতিল ঘোষণা করা হয়।

মামলা দায়েরের পর নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এক বিবৃতিতে বলেন, যেসব দেশ ও অঞ্চলের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, সেখান থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আসা প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ আমদানি পণ্য আসে।

তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পরও নতুন করে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন আবারও মার্কিন পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর করের বোঝা চাপানোর চেষ্টা করছে।” লেটিশিয়া জেমসের ভাষায়, “প্রশাসন এই শুল্ককে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও সংবিধান স্পষ্টভাবে বলে, প্রেসিডেন্ট ইচ্ছেমতো কোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারেন না।”

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার আইনসম্মত ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন নীতি ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, যা মার্কিন শ্রমিক ও বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর।

আরও পড়ুন

রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ২৬

তিনি বলেন, “জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থতা মার্কিন বাণিজ্যের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করে। ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা প্রেসিডেন্টের প্রথম মেয়াদ থেকেই একটি আইনগতভাবে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।” এদিকে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল বলেন, জোরপূর্বক শ্রমের অজুহাতে ব্যাপক শুল্ক আরোপের ফলে সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবৈধ শুল্ক কর্মজীবী পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কার্যত নতুন কর। এর ফলে খাদ্যপণ্য, গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, নির্মাণ উপকরণসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা পণ্যের দাম বাড়ছে।” তিনি আরও বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করেছেন, শুল্ক আরোপের নামে আইনের সীমা অতিক্রম করা যাবে না।”

ভোরের আকাশ/সু.পা

ট্রাম্প প্রশাসন

শেয়ার করুন: