হরমুজ থেকে মাইন অপসারণে লাগতে পারে ২–৩ সপ্তাহ : মার্কিন নৌবাহিনী

আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি থেকে সব মাইন অপসারণ করতে অন্তত ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। তাদের মতে, এই জলপথ সম্পূর্ণভাবে মাইনমুক্ত করা দ্রুত সম্ভব নয়।
মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, সমুদ্রপথে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া স্থলভাগের তুলনায় অনেক বেশি সময়সাপেক্ষ। এর পাশাপাশি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—কোন কোন স্থানে মাইন পাতা হয়েছে, তার নির্ভুল তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেই। ফলে প্রথমে মাইন খুঁজে বের করা এবং পরে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করার জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজে বিভিন্ন ধরনের মাইন ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বটম মাইন, টেদার্ড মাইন, ড্রিফটিং মাইন এবং লিম্পেট মাইন। প্রতিটি মাইনের ধরন আলাদা হওয়ায় এগুলো শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অপারেশন বিভাগের প্রধান অ্যাডমিরাল ডেরিল কাউডলে বলেন, সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণ একটি দীর্ঘ ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্রায়ান ক্লার্ক জানান, পুরো প্রণালি সম্পূর্ণ মাইনমুক্ত করতে অন্তত দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, এমনকি আরও বেশি সময়ও লাগতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পরিবাহিত হয়। এর আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রণালির বিভিন্ন স্থানে মাইন পাতা হয় বলে ধারণা করা হয়। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয় এবং বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দেয়।
পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ থেকে মাইন অপসারণকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ কোথায় মাইন বসানো হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড নেই বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
ভোরের আকাশ/সু.পা