জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ ইসরায়েলের

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট জেনারেল ৩০ দিনের মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইল। পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিক্রিয়ায় এই চরম কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে তেল আবিব।
যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে দেওয়া এক বক্তব্যে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর উগ্রপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে আখ্যা দেন। এরই পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধসহ একাধিক কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেন।
বুধবার ( ৯ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সরকার যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান।
শেখ জাররাহ এলাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি অধিকৃত ভূখণ্ডে ফিলিস্তিন-সংক্রান্ত বিষয়। এর মধ্যে গাজা, পশ্চিম তীর ও জেরুজালেম অন্তর্ভুক্ত, নিয়ে কাজ করে। ইসরায়েলের ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত তেল আবিবে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাসে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পর থেকে পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েলের অবৈধ দখলে থাকা ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে অধিকাংশ দেশ। তবে, ইসরায়েলের দাবি, জেরুজালেমই তাদের অবিভক্ত রাজধানী।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাসা’আর বলেন, একীভূত জেরুজালেম হলো ইসরায়েলের রাজধানী এবং এটি সম্পূর্ণভাবে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের অধীনে। এই এলাকায় যে কোনো বিদেশি কার্যক্রম অবশ্যই স্বীকৃত ও সম্মত চ্যানেলের মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে এবং ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা যাবে না।
সা’আর আরও কয়েকজন ব্রিটিশ এমপির ইসরায়েলে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া এমপিদের বেশিরভাগই বামপন্থী। এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিন, ‘ইওর পার্টি’র এমপি জারা সুলতানা, লেবার পার্টির এমপি ডায়ান অ্যাবট, নাজ শাহ, জন ম্যাকডোনেল ও রিচার্ড বার্গন এবং গ্রিন পার্টির এমপি হান্না স্পেন্সার, কার্লা ডেনিয়ার, সিয়ান বেরি ও এলি চাউনস।