গাজায় পুলিশ স্টেশনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা, নিহত ৮

উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের একটি পুলিশ স্টেশনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে পশ্চিম জাবালিয়ার আল-ফালুজা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ছয়জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ওই পুলিশ স্টেশনের পরিচালকও রয়েছেন। হামলায় এক বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ গণহত্যা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি গাজার ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নিহত আটজনের মধ্যে এক নারী কর্মকর্তাও রয়েছেন। নিহতদের মরদেহ আল-শিফা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আল জাজিরার গাজা সিটি প্রতিনিধি হানি মাহমুদ বলেন, তাদের কাজ ছিল একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরের মধ্যে গড়ে ওঠা বাজারের মতো ওই এলাকায় কোনোরকমে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।
প্রসঙ্গত, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। জাবালিয়ার এই হামলা তারই সর্বশেষ ঘটনা।
এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে পৃথক হামলা ও গুলির ঘটনায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, খান ইউনিসের কোনো এক এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক ব্যক্তি নিহত এবং এক শিশু ও এক নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। একই এলাকায় দুই দিন আগে ইসরায়েলি গুলিতে আহত আরেক ব্যক্তিও মারা গেছেন।
এছাড়া খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি গুলিতে এক শিশু নিহত হয়েছে। ওয়াফার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ বছর বয়সী ওই শিশুটি ভারী মেশিনগানের গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং স্বজনরা হাসপাতালে নেওয়ার আগেই রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুরো গাজায় মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ২৩৩ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭০৭ জন আহত হয়েছেন।
গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও অন্তত ১ হাজার ১১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে মন্ত্রণালয়ের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/এম