২০২২ সালে ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকলে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ হতো না: পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকলে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালাত না। এমনকি পূর্ব ইউরোপেও কোনো যুদ্ধ বাঁধতো না। তবে সে সময়কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় রাশিয়া বাধ্য হয়ে ইউক্রেন আক্রমণ করেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
গত শুক্রবার (১৫ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর এ মন্তব্য করেন পুতিন। বৈঠকের সময় ট্রাম্প তার পাশে উপস্থিত ছিলেন।
পুতিন জানান, ২০২২ সালে তিনি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং স্পষ্টভাবে বলেছিলেন— পরিস্থিতিকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া উচিত নয়, যেখান থেকে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে আর তা ঠেকানো সম্ভব হবে না। “আমি সতর্ক করেছিলাম, বড় ভুল হচ্ছে,” বলেন পুতিন।
রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার একটি ভালো, ব্যবসায়িক ও বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তার মতে, এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ইউক্রেন সংকটের দ্রুত সমাধান সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, অতীতে রাশিয়া–আমেরিকা সম্পর্ক খুব একটা মসৃণ ছিল না। এখন তা ‘মেরামত’ করা প্রয়োজন।
আলাস্কার বৈঠককে উভয় নেতা ‘ফলপ্রসূ’ ও ‘ইতিবাচক’ হিসেবে বর্ণনা করলেও যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো চুক্তি হয়নি। তবে ট্রাম্প মার্কিন গণমাধ্যমকে বলেন, পরবর্তী পদক্ষেপ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর নির্ভর করছে। তিনি জেলেনস্কিকে পুতিনের সঙ্গে চুক্তি করার পরামর্শ দেন এবং প্রয়োজন হলে সেই বৈঠকে নিজেও উপস্থিত থাকার ইঙ্গিত দেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর ওপর একাধিক বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। জবাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমায় রাশিয়া। এর পর থেকে ভারত সাশ্রয়ী মূল্যে রাশিয়া থেকে তেল কিনে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ভারতের এই তেল আমদানি রাশিয়ার আর্থিক সুবিধা বাড়াচ্ছে এবং সেই অর্থ ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে। এ কারণে ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দেন। এর পরই আলাস্কায় পুতিন–ট্রাম্প বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ভোরের আকাশ//হ.র