ইরানে কঠোর হামলার আশঙ্কা, প্রস্তুত ইসরায়েল

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করেছে ইসরায়েল। মার্কিন হামলার পর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে—এমন আশঙ্কায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো। রোববার (২ আগস্ট) তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (১ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্ত্রিসভার সঙ্গে বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে এমন মাত্রার হামলা চালানো হবে যাতে তেহরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে অক্ষম হয়ে পড়ে।
ইসরায়েলের দৈনিক ইয়েদিয়োত আহরোনোত জানিয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়েছে। সামরিক কর্মকর্তাদের ধারণা, ট্রাম্প যে কোনো সময় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন। তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনো পদক্ষেপের জবাবে ইরান সরাসরি ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলের চ্যানেল–১২ জানিয়েছে, সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সামরিক বাহিনী নিজস্ব প্রস্তুতিও জোরদার করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রভাব বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন নিরাপত্তা পরিকল্পনা হালনাগাদ করা হচ্ছে। চ্যানেলটির বরাতে এক অজ্ঞাত সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা এখন ‘বিস্ফোরণের দ্বারপ্রান্তে’ পৌঁছেছে।
ওই সূত্রের দাবি, ট্রাম্প এখন ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে সময়ক্ষেপণ হিসেবে দেখছেন এবং বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন।
অন্যদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে। এ ধরনের প্রতিক্রিয়ার জন্য তারা পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও দাবি করেছে তেহরান। সূত্র: টিআরটি
ভোরের আকাশ/সু.পা