হরমুজে গোলাগুলি, এশিয়ার বাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা ব্যবহার করে চালানো ‘অপ্ররোচিত’ হামলা তারা প্রতিহত করেছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার সময় আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
এই সংঘাতের প্রভাব দ্রুত বিশ্ববাজারে পড়ে। দিনের মাঝামাঝি সময়ে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০১ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছায়। দিনের শুরুতে দাম ২ শতাংশের বেশি বাড়লেও পরে কিছুটা কমে আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫ দশমিক ৮৭ ডলারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার অগ্রগতি বজায় রাখতে গত ২১ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছিল।
ট্রাম্প বলেন, “আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে সমঝোতা না হলে ইরানকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার জড়িত ছিল এবং ইরানের কয়েকটি ছোট নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের কোনো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং ইরানি বাহিনীর পাল্টা হামলায় মার্কিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, পরিস্থিতি এখন ‘স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে’। একই সঙ্গে মার্কিন পক্ষ থেকেও উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। কারণ বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে সংঘাত দেখা দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি প্রভাব পড়ে।
ভোরের আকাশ/সু.পা