ইরান যুদ্ধের পর নিজের ক্ষমতা বেড়েছে বলে দাবি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর বৈশ্বিক ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিজের প্রভাব ও ক্ষমতা আরও বেড়েছে বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার প্রয়োগ ও তার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে তাকে নতুন কোনো উপলব্ধি দিয়েছে কি না।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, “তেমন কোনো নতুন ধারণা পাইনি। তবে আমি অনুভব করছি যে আমার ক্ষমতার কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। অবশ্যই আমি জানি, বাস্তবে সীমা আছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে আমি কোনো সীমাবদ্ধতা দেখিনি। আমরা সামরিকভাবে তাদের সম্পূর্ণ পরাজিত করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আমাদের। এমন অবরোধ আর কে দিতে পারত? আমি যখন নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছিলাম, ইরানের একটি জাহাজও বন্দর ছাড়তে পারেনি। তারা কয়েকবার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে।”
ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকেই তেহরানের কাছ থেকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ চেয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি তার সেই লক্ষ্য পূরণ করেছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি মনে করি, এটি সম্ভবত নিঃশর্ত আত্মসমর্পণেরই সমতুল্য।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের সংঘাত ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর প্যারিসে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। পরে তেহরানেও একই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেন, নীতিগতভাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে ছিলেন না। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক চাপ ও প্রচেষ্টার কারণে শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে সম্মত হয়েছে ইরান। সূত্র : এক্সিওস, আনাদোলু এজেন্সি
ভোরের আকাশ/সু.পা