শিরোনাম
২০২৪ সালে তীব্র গরমে সময়ের আগে জন্মেছে ৫৫১৫ শিশুবিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতনঢাকার সুইডেন দূতাবাসে শেনজেন ভিসার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণাজলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে চলতি মাসেই তুরস্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীঅটোগ্যাসের দামও বাড়লো, রাতেই কার্যকরশ্রমিকদের আন্দোলনে পরাজিত শক্তির উসকানি রয়েছে: রিজভী২ বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: এখনও সৌদির জবাবের অপেক্ষায় ঢাকা২২৩ টাকা বাড়ল ১২ কেজি এলপিজির দাম২০২৪ সালে তীব্র গরমে সময়ের আগে জন্মেছে ৫৫১৫ শিশুবিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতনঢাকার সুইডেন দূতাবাসে শেনজেন ভিসার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণাজলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে চলতি মাসেই তুরস্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীঅটোগ্যাসের দামও বাড়লো, রাতেই কার্যকরশ্রমিকদের আন্দোলনে পরাজিত শক্তির উসকানি রয়েছে: রিজভী২ বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: এখনও সৌদির জবাবের অপেক্ষায় ঢাকা২২৩ টাকা বাড়ল ১২ কেজি এলপিজির দাম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কী, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই ভোট?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১:৫৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কী, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই ভোট?
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কী, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই ভোট?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন হলো মার্কিন প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে (দুই বছর পর) অনুষ্ঠিত কংগ্রেস তথা আইনসভার নির্বাচন। এই নির্বাচনে সরাসরি প্রেসিডেন্ট পদে ভোট হয় না, তবে দেশের আইন প্রণয়ন ও ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে এই ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৩ নভেম্বর দেশটিতে পরবর্তী মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এতে কংগ্রেসের দুই কক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়বে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি এবং বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি দুই বছর পরপর কংগ্রেসের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হন। অন্যদিকে, সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর।

কংগ্রেসের মূল কাজ হলো দেশজুড়ে কার্যকর হবে এমন আইন তৈরি, আলোচনা ও পাস করা। পাশাপাশি, সরকারের বিভিন্ন কাজের ওপর নজরদারি করাও কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

কাদের নির্বাচন হবে

এবার হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই কক্ষের সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হন।

অন্যদিকে, সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ভোট হবে ৩৫টিতে। সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর হওয়ায় প্রতি দুই বছর পরপর এই কক্ষের একাংশের আসনে নির্বাচন হয়।

একই দিনে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নরসহ স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ও মিশিগানের গভর্নর নির্বাচন বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে।

নির্বাচনে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে

এবারের নির্বাচনে অর্থনীতি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। জ্বালানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাপে রয়েছেন অনেক মার্কিন নাগরিক। পাশাপাশি, মূল্যস্ফীতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে তাদের মধ্যে।

এদিকে, ট্রাম্পের বাণিজ্য শুল্কনীতির কারণে পণ্যের দাম বেড়েছে বলে অভিযোগ ডেমোক্র্যাটদের। শুল্ক আরোপের প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে, দাবি তাদের।

অন্যদিকে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণও এবারের নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ট্রাম্প নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন বলে দাবি রিপাবলিকানদের। তবে, এসব অভিযানের কিছু কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

একই সঙ্গে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও নির্বাচনি আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। দুই দলের অনেক নেতা এআইয়ের বিকাশ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের পক্ষে থাকলেও ট্রাম্প এর বিরোধিতা করেছেন।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কেন গুরুত্বপূর্ণ

বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে দলটির আসন ২১৮টি। অন্যদিকে, সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন রয়েছে ৫৩টি।

তবে, দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে হাউজে আসনের ব্যবধান কম হওয়ায় নির্বাচনে সামান্য পরিবর্তনও ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা হাউজ কিংবা সিনেটের যে কোনো একটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে, কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে তার প্রশাসনের কার্যক্রম তদন্ত করার সুযোগও পাবে বিরোধী দল।

তবে, রিপাবলিকানরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ তুলনামূলক সহজ হবে। কারণ, তখন আইন পাস করা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ এগিয়ে নিতে তাকে বিরোধী দলের বাধার মুখে কম পড়তে হবে।

আগামী ২০২৮ সালের নির্বাচনেও প্রভাব

মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের নাম ব্যালটে থাকে না। তবে, এই নির্বাচনের ফলাফলকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও তার নীতির প্রতি জনগণের সমর্থনের একটি পরিমাপক হিসেবে দেখা হয়।

সাধারণত এ ধরনের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দলকে ভোটারদের অসন্তোষের মুখে পড়তে হয়।

এদিকে, এবারের নির্বাচনের ফলাফল ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরেও আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না ট্রাম্প।

ফলে, তার উত্তরসূরি হিসেবে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে নির্বাচনের পর আলোচনা আরও জোরালো হতে পারে। একই সঙ্গে, দলটির নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়েও শুরু হতে পারে নতুন হিসাবনিকাশ।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হতে পারে।

পাশাপাশি, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল দলটির ২০২৮ সালের নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণেও প্রভাব ফেলতে পারে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে।

ভোরের আকাশ/আ.র

শেয়ার করুন: