ইউরোপে সাগর ও স্থলপথে অবৈধ প্রবেশে শীর্ষে বাংলাদেশিরা

ইউরোপে সাগর ও স্থলপথে অনিয়মিতভাবে প্রবেশের ঘটনায় বাংলাদেশিদের উপস্থিতি আবারও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে এতদিন ইতালি ও স্পেনে অবৈধ প্রবেশে এককভাবে বাংলাদেশিরা এগিয়ে ছিলেন।
এবার তারা ইউরোপের পূর্বাঞ্চলীয় বলকান সীমান্ত পথেও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৯ শতাংশ কমে প্রায় ২১ হাজার ৪০০-তে নেমে এসেছে। কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগর পথে বাংলাদেশিদের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা এবারও তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।
এ রুটে প্রথম তিন মাসে প্রায় ৬ হাজার ২০০ জন অনিয়মিত অভিবাসীর সীমান্ত অতিক্রম শনাক্ত হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৩ শতাংশ কম। প্রবেশকারীদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি।
লিবিয়া ও তিউনিসিয়া থেকে ইতালির দিকে এই রুটটি বাংলাদেশি অভিবাসীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। তবে সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রার কারণে এ পথে মৃত্যুঝুঁকিও বেশি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইউরোপের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত পথে ৬৮২ জন অভিবাসী ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। এ পথে ইউক্রেনের নাগরিকরা শীর্ষে এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশিরা। এর আগে এ পথে এত বেশি বাংলাদেশি শনাক্ত হয়নি।
এছাড়া চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ইইউতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সক্রিয় ছিল পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুট। এ পথে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জনের প্রবেশ শনাক্ত করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ কম। এই রুটটি বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বাংলাদেশি তুরস্ক হয়ে গ্রিস সীমান্ত পেরিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন, যাকে পূর্বাঞ্চলীয় স্থলপথ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।
এদিকে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ জনের প্রবেশ শনাক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৬ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টাও কমেছে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে অনুপ্রবেশ ৪১ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৬০০-তে নেমে এসেছে।
কমছে সংখ্যা, বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি
প্রতিবেদনে বলা হয়, সামগ্রিকভাবে অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা কমলেও মানবিক ক্ষয়ক্ষতি কমছে না। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে প্রায় ১ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। মানবপাচারকারী চক্রগুলো ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকলেও বিপুল মুনাফার লোভে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রায় অভিবাসীদের প্রলুব্ধ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ভোরের আকাশ/এনউব