ইরানে হামলা চালাতে ‘১০ মিনিট লাগবে’: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ইরানের অবশিষ্ট পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে সক্ষম।
রোববার (১ নভেম্বর) ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, ইরানের দু’-একটা জায়গা ধ্বংস করা এখনও বাকি। প্রয়োজনে মাত্র ১০ মিনিটেই হামলা চালিয়ে সেসব জায়গা উড়িয়ে দেওয়া যায়।
গত শনিবার ইরানের গোপন স্থান থেকে মুজতাবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘লক্ষ্য তালিকা’ উল্লেখ করে বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, যে কোনও হুমকি বা হামলার জবাব ‘অবিলম্বে’ দেওয়া হবে।
এরপরই ট্রাম্প শনিবার ফ্লোরিডার বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা তাদের (ইরান) পারমাণবিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছি। তবে এখনও একটি, দু’টি রয়ে গেছে। সেগুলোর ব্যবস্থা আমাদেরকে করতে হবে, আমরা তা ১০ মিনিটের মধ্যেই করতে পারি।”
কোথায় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র সেই আভাসও দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানকে ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’-এর দিকে নজর দিতে বলেছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, “আপনি পিকঅ্যাক্স পর্বতের দিকে তাকাতে পারেন। সেটির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা এগুলো সবই খুব দ্রুত করতে পারি।” তবে কবে বা কী ভাবে হামলার পরিকল্পনা করছেন সে ব্যাপারে কিছু খোলসা করে বলেননি তিনি।
সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চেয়ে প্রশ্ন করলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘আমি কি আপনাদের বলে হামলা চালাব’’
যদিও এর একদিন আগে শুক্রবারেই কানসাস সিটির রেডিও স্টেশন ‘কেসিএমও’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে।”
তবে তিনি এও বলেছিলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র কখনওই তৈরি হবে না, আমাদের তেমন একটা নিশ্চয়তার দরকার আছে।’ একইসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন বাহিনী ইরানে হামলা চালাবে না।
তবে নির্বাচনের পর ট্রাম্প নতুন সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমরা হয়ত আরেকটি ছোট এপিক ফিউরি করতে পারি।”
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। সেই নির্বাচনের ফলের উপর নির্ভর করছে, মার্কিন কংগ্রেসে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির আধিপত্য থাকবে কি না।
ইরানে হামলার পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে মার্কিনিদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। দিন দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে। ট্রাম্পের যুদ্ধনীতিতে তাই অনেকেই অখুশি।
তবে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে খুশিও অনেকে। এমন আবহে জনমত বোঝার জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনকে এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন ট্রাম্প। অনেকের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি বদলাবে কিনা সেটি এই নির্বাচনের ফলের উপরই নির্ভর করছে।
ভোরের আকাশ/আ.র