জাতিসংঘসহ ৬৬ আন্তর্জাতিক সংস্থা ছাড়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

এক মুহূর্তেই যেন থমকে গেল কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক সমঝোতা। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা হোক বা যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের সুরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই এখন অনিশ্চয়তার ঘনকুন্ডল। কোনো পূর্বনির্ধারিত সতর্কবার্তা ছাড়াই ছিঁড়ে ফেলা হলো বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা বৈশ্বিক সহযোগিতার সুতো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নাটকীয় ও চরম সিদ্ধান্ত বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
বুধবার ( ৭ জানুয়ারি) রাতে হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ স্মারকলিপিতে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘসহ ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করবে। ট্রাম্পের দাবি, এসব সংস্থা, চুক্তি ও কনভেনশন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থি।
এই তালিকায় রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত আইপিসিসি, ইউএনএফসিসি, পাশাপাশি মা ও শিশু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কাজ করা ইউএনএফপিএ-র মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। শুধু অংশগ্রহণই নয়, এসব সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের অর্থায়নও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প ইতিমধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। উল্লেখ্য, ডব্লিউএইচও-এর মোট বাজেটের প্রায় ১৮ শতাংশ অর্থায়ন আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, যা বন্ধ হলে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আমেরিকার এই বিচ্ছিন্নতাবাদী নীতি দেশটির বৈশ্বিক প্রভাবকে কমিয়ে দেবে এবং জলবায়ু ও গণতন্ত্র রক্ষার বৈশ্বিক লড়াইকে কয়েক দশক পিছিয়ে দিতে পারে।
ভোরের আকাশ/তা.কা