লড়াইয়ে ফিরছে হিজবুল্লাহ, ইরানের অর্থায়নে নিচ্ছে নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি

ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কায় তিন মাস ধরে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এ প্রস্তুতির জন্য ইরান থেকে কয়েক কোটি ডলার পাওয়ার কথাও জানা গেছে। লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র এবং হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্রের মতে, সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ইরান থেকে কয়েক কোটি ডলার পেয়েছে গোষ্ঠীটি। এর বাইরে লেবাননের শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে সহায়তার জন্য তেহরান থেকে প্রায় ২০ কোটি ডলার পেয়েছিল হিজবুল্লাহ।
সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি লড়াইয়ে ভেঙে পড়া কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে গোষ্ঠীটি। এ বিষয়ে হিজবুল্লাহর কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এবং নিরাপত্তা বাহিনীর আরও তিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে হিজবুল্লাহর গণমাধ্যম দপ্তর বলেছে, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারত্বের কারণে প্রতিরোধ গড়ে তোলা তাদের বৈধ অধিকার। তবে তাদের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে গোষ্ঠীটি।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ এখনো তাদের অস্ত্রভান্ডার ও যোদ্ধাদের পুরোপুরি প্রস্তুত করতে পারেনি। অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহের কাজ এখনো চলছে।
চলতি মাসে লেবাননের কর্তৃপক্ষের জব্দ করা কিছু বিস্ফোরক নিজেদের বলে স্বীকার করেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, বিস্ফোরকগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল। হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তা ও লেবাননের এক নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এগুলো বিশেষভাবে বিস্ফোরকবাহী ড্রোনে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।
লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ফ্রন্টে ক্ষয়ক্ষতির কারণে কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও মেরামত করতে হবে হিজবুল্লাহকে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে সংঘাতপ্রবণ বিনত জুবাইল শহর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলি আল-তাহের পাহাড়ি শৈলশিরা।
লেবাননের একটি সূত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর তিন কর্মকর্তার মতে, ছোট ছোট দলে অভিযান চালানো এবং ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সীমিতভাবে ব্যবহারের কৌশলের কারণে কয়েকটি ফ্রন্টে হিজবুল্লাহর কিছু ইউনিট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। ফলে দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত ইসরায়েলি সামরিক ব্যবস্থা, অস্ত্রসজ্জিত ড্রোন এবং সশস্ত্র রিমোট-নিয়ন্ত্রিত যানবাহনের মোকাবিলা করতে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়।
ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে হিজবুল্লাহ তাতে সরাসরি অংশ নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করেনি গোষ্ঠীটি।
তবে হিজবুল্লাহর গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, লেবাননে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য ইসরায়েলি নেতারা যেন কোনো অজুহাত না পান, সে বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে নিজেদের সমর্থক ও সাধারণ মানুষকে আবারও বাস্তুচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে গোষ্ঠীটির।
ভোরের আকাশ/আ.র