পুতিনের হুঁশিয়ারি: ট্রাম্পের আলটিমেটাম আমলে নেই, যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটামকে গুরুত্ব না দিয়ে রাশিয়া নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি শান্তি আলোচনায় আগ্রহী হলেও ফ্রন্টলাইনে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।
শুক্রবার (১ আগস্ট) উত্তর-পশ্চিম রাশিয়ার ভালাম দ্বীপে এক ভাষণে পুতিন বলেন, “সব হতাশার উৎস অতিরিক্ত প্রত্যাশা।” ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ‘পুতিনের ওপর হতাশা’ প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগের দিন রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলায় কিয়েভে একটি নয়তলা ভবনের ব্লক ধসে পড়ে। এতে পাঁচ শিশুসহ অন্তত ৩১ জন নিহত হয়। এই হামলার পরদিনই শান্তি আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়ে পুতিন আবারও দাবি করেন, ইউক্রেনকে নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে হবে এবং রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চলগুলোকে স্বীকৃতি দিতে হবে। ইউক্রেন অবশ্য এসব দাবি ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে দেখছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, “আমি যেকোনো সময় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে প্রস্তুত। তবে প্রশ্ন হলো—রাশিয়া কি সত্যিই যুদ্ধ শেষ করতে চায়, নাকি এটি শুধুই সময়ক্ষেপণের কৌশল?”
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি চান দুই পক্ষই যুদ্ধবিরতিতে আসুক। তার দূত স্টিভ উইটকফ ইতোমধ্যে ইসরায়েলে অবস্থান করছেন এবং শিগগিরই রাশিয়ায় যাবেন বলে জানান ট্রাম্প। তবে সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেন, “৮ আগস্টের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ না হলে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আসবে। এমনকি যারা রাশিয়ার তেল কিনবে, তারাও শাস্তির আওতায় আসবে।”
রুশ সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা যায়, এসব হুমকিকে পাত্তা দিচ্ছে না মস্কো। বরং পশ্চিমা চাপ মোকাবিলা করে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত রাশিয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা থাকলেও বাস্তবে রাশিয়ার মূল লক্ষ্য ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া তিন দফা আলোচনাও ফলপ্রসূ হয়নি।
জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক জন কেলি বলেন, “এখনই সময় যুদ্ধবিরতির দিকে এগোনোর। প্রতিদিন মানুষ মরছে, দেশ ধ্বংস হচ্ছে—এই রক্তপাত আর কতকাল চলবে?”
ভোরের আকাশ//হ.র