আইসিইউতে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে

রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে। শনিবার (২৩ আগস্ট) কলম্বোর একটি সরকারি হাসপাতালে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।
শুক্রবার দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে পাঠায়। এরপর থেকেই তিনি পানিশূন্যতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। চিকিৎসকেরা জানান, অবস্থা গুরুতর হয়ে উঠলেও বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল আছেন।
কারা কর্তৃপক্ষ বলেছে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কারাগারের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে জাতীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
৭৬ বছর বয়সী এই সাবেক নেতা গত বছরের সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে পরাজয়ের পরও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন। বিরোধীদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য শনিবার সকালে কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করেন। তারা দাবি করেন, বিক্রমাসিংহে এখনও দৃঢ় মনোবল নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালে জাতিসংঘ অধিবেশন শেষে যুক্তরাজ্যে ব্যক্তিগত সফরে গিয়ে তিনি সরকারি অর্থ ব্যবহার করেছিলেন। প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ রুপি (প্রায় ৫৫ হাজার ডলার) অপব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন তিনি। তবে বিক্রমাসিংহে দাবি করেছেন, ভ্রমণ ব্যয় তিনি নিজেই বহন করেছেন, সরকারি অর্থ ব্যবহার হয়নি।
২০২২ সালে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে গোটাবায়া রাজাপাকসে পদত্যাগ করার পর প্রেসিডেন্ট হন বিক্রমাসিংহে। তার নেতৃত্বে দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ নিয়ে অর্থনীতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করে।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার সরকারের উদ্যোগে ইতিমধ্যে সাবেক মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজাপাকসে পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম চলছে।
ভোরের আকাশ/হ.র