আবেগঘন ভাষণ দিয়ে বিদায় নিলেন স্টারমার

যুক্তরাজ্যের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার হাউস অব কমন্সে শেষবারের মতো প্রাইম মিনিস্টার’স কোয়েশ্চেনসে অংশ নিয়ে আবেগঘন বিদায়ী বক্তব্য দিয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন, এটাই আমার রাজনৈতিক যাত্রার সমাপ্তি।
লেবার পার্টির এমপি ক্যারোলিন হ্যারিসের এক প্রশ্নের জবাবে স্টারমার তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। হ্যারিসকে নিজের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সমর্থক ও বন্ধু উল্লেখ করে তিনি তার এবং পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্টারমার বলেন, প্রত্যেক প্রধানমন্ত্রীই জানেন, দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে একদিন সেই দায়িত্ব অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার সময়ও আসবে। আমার জন্য সেই দিন এসে গেছে। এটাই আমার রাজনৈতিক যাত্রার শেষ।
বিদায়ী ভাষণে তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনী পরাজয়ের পর লেবার পার্টিকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক বিজয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দুই বছর সরকার পরিচালনার পর এমন একটি দেশ রেখে যাচ্ছেন, যা দায়িত্ব নেওয়ার সময়ের তুলনায় আরও ভালো অবস্থানে রয়েছে।
আমরা যা অর্জন করেছি, তার সবকিছু নিয়েই আমি গর্বিত, বলেন স্টারমার।
এ সময় তিনি লেবার পার্টির নেতা-কর্মী, দলীয় এমপি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নিজের সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
একই সঙ্গে নতুন সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমার উত্তরসূরি এবং এই কক্ষের প্রত্যেক সহকর্মীকে আমি আন্তরিক সমর্থন জানাব।
ভাষণের শেষ মুহূর্তে দর্শক সারিতে উপস্থিত নিজের পরিবারের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দেন স্টারমার। তিনি বলেন, গ্যালারিতে উপস্থিত যাদের জীবন এই লেবার সরকারের কারণে বদলেছে বা উন্নত হয়েছে এবং দেশের যেসব মানুষ নিজেদের অবহেলিত মনে করেন, আপনারাই আমাকে রাজনীতিতে আসতে অনুপ্রাণিত করেছেন। আমার স্ত্রী ও সন্তানদের বলছি, আমি তোমাদের ভালোবাসি। বিদায়।
এর আগে অধিবেশনে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বাদেনক স্টারমারের সঙ্গে হালকা রসিকতা করেন এবং তার উত্তরসূরি অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করেন।
বাদেনক বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া বার্নহ্যামের উচিত হাউস অব কমন্সে এসে প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া, গ্রীষ্মকালীন বিরতির আড়ালে না থাকা।
জবাবে স্টারমার বলেন, তিনি নিশ্চিত যে বাদেনক তার উত্তরসূরিকেও একইভাবে কঠিন প্রশ্ন করবেন, যেভাবে এতদিন তাকে করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বার্নহ্যামের প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় বাদেনক মন্তব্য করেন, ‘নতুন প্রধানমন্ত্রী কোনো জাদুকরি সমাধান নন।
সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার (১৭ জুলাই) লেবার পার্টির নেতৃত্ব ছাড়বেন কিয়ার স্টারমার। এরপর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। আগামী সোমবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিট ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেবেন স্টারমার।
এদিকে অধিবেশনের শুরুতে স্টারমার, কেমি বাদেনক এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি সম্প্রতি নিহত সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী অ্যান উইডিকম্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এড ডেভি বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীকে ‘একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক’ আখ্যা দিয়ে তার জনসেবার প্রশংসা করেন।
ভোরের আকাশ/এম