যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনায়

দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় পরোক্ষ আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে সমঝোতার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই, এমন সময়ে ওয়াশিংটন অঞ্চলটিতে সামরিক শক্তি জড়ো করছে।
মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার আলোচনায় অংশ নেবেন। ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও উপস্থিত থাকবেন বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি জেনেভার আলোচনায় “পরোক্ষভাবে” যুক্ত থাকবেন এবং তার বিশ্বাস তেহরান একটি চুক্তি করতে আগ্রহী।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি মনে করি না তারা চুক্তি না করার পরিণতি চায়। আমরা তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে বি-২ বোমারু বিমান পাঠানোর বদলে একটি চুক্তি করতে পারতাম। আর আমাদের বি-২ পাঠাতেই হয়েছে।”
গত বছরের জুনে আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার একটি প্রচেষ্টা চলছিল, যখন ওয়াশিংটনের মিত্র ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বোমা হামলা শুরু করে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমানও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় অংশ নেয়। এরপর ইরান জানায়, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করেছে।
দুই মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দিলে ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরান সোমবার হরমুজ প্রণালিতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথটি উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর তেল রপ্তানির প্রধান রুট, যারা বিরোধের অবসানে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
প্রতিবাদ ও যুদ্ধের ছায়ায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক আলোচনা
তেহরান ও ওয়াশিংটন তাদের কয়েক দশকের বিরোধ নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি পুনরায় আলোচনা শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের বিশ্বাস, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায়, যা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে। তবে ইরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। যদিও তারা বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায়, এমনকি বোমা তৈরির উপযোগী মাত্রার কাছাকাছি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে।
গত জুনের হামলার পর থেকে ইরানের ইসলামি শাসকগোষ্ঠী দুর্বল হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তেলের আয় কমে যাওয়ায় সৃষ্ট জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়, যা দমন করতে গিয়ে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
গতবারের তুলনায় এবার যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে ট্রাম্পের ভাষায় “বিশাল নৌবহর” মোতায়েন করেছে।]
ওয়াশিংটন আলোচনার পরিধি বাড়িয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের মতো অ-পারমাণবিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়েই আলোচনা করতে প্রস্তুত—বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের শর্তে। তারা পুরোপুরি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা করবে না বলে জানিয়েছে।
সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুদাপেস্টে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা কঠিন, তবে যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করতে প্রস্তুত।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি সোমবার জেনেভায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসন্ন আলোচনার কারিগরি দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে উইটকফ ও কুশনার রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনায়ও অংশ নেবেন। চার বছর ধরে চলা ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শেষ করতে ওয়াশিংটন উভয় পক্ষকে সমঝোতায় আনতে চেষ্টা করছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।সূত্র : রয়টার্স
ভোরের আকাশ/তা.কা