সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের প্রচারযুদ্ধ, অস্ত্র জেফরি এপস্টেইন

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি এবার এক অভিনব মনস্তাত্ত্বিক ও ডিজিটাল প্রচারযুদ্ধ শুরু করেছে, যার প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে আমেরিকার কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের বিতর্কিত নথি। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
ইসলামের পবিত্র দুই শহর মক্কা আর মদিনার অভিভাবক সৌদি আরব। তারা হুতির হামলাকে ইসলামের ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করে আসছেন। এবার সেই ধর্মের খেলায় সৌদি আরবকে কাবু করতে মাঠে নেমেছে হুতিরা। আর এই প্রচারণায় হুতিরা টেনে এনেছে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে।
হুতিরা এমন কিছু রিপোর্টের ওপর আলোকপাত করছে যা দেখায় যে, সৌদি রাজপরিবারের সহযোগীরা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান মক্কার কাবা শরিফের গিলাফ জেফরি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত অভিশপ্ত দ্বীপে পাঠিয়েছিল। এর মাধ্যমে হুতিরা সৌদি আরবের নেতাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চায়। তারা প্রমাণ করতে চায়, সৌদি নেতারা দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ইসলামের বিশ্বাসের রক্ষক হিসেবে অনুপযুক্ত। আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের সমর্থন বাড়াতে হুতিরা এ প্রচারযুদ্ধ শুরু করেছে।
সৌদি আরবের দাবির বিপরীতে হুতিরা নিজেদের ইসলামের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরব হুতিদের বিরুদ্ধে মক্কা ও মদিনা অঞ্চল লক্ষ্য করে ড্রোন ছোঁড়ার অভিযোগ এনেছিল। এটিকে তারা একটি জঘন্য হামলা এবং মুসলিমদের উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা বলে অভিহিত করে। হুতিরা অবশ্য এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। জবাবে হুতিরা উল্টো সৌদি রাজতন্ত্রের দিকেই ধর্মীয় বিশ্বাসঘাতকতার তীর ছুড়ে দিয়েছে।
হুতি প্রেসিডেন্ট মাহদি আল মাশাত বলেছেন, যারা কাবার গিলাফ এপস্টেইনকে দিয়েছিল, তারাই আসলে মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
এই বার্তাটি হুতিদের নেটওয়ার্ক জুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়। যার মধ্যে এক্স প্ল্যাটফর্মে ২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি ফলোয়ার থাকা একজন ইয়েমেনি কৌতুক অভিনেতার মন্তব্য এবং একজন ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীতশিল্পীর গানও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইয়েমেন বিশেষজ্ঞ এবং ঝুঁকি উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান বাশা রিপোর্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আল-বাশা, যিনি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই দলটিকে পর্যবেক্ষণ করছেন, তিনি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন যে দলটির যোগাযোগ ব্যবস্থা একসময়ের ’দুজন মানুষের দল’ থেকে এখন একটি সুসংগঠিত মিডিয়া সিস্টেমে পরিণত হয়েছে।
আল-বাশা বলেন, ‘তারা খুব ভালোভাবেই যুক্ত।’ তিনি আরও যোগ করেন যে হুতি নেটওয়ার্ক এখন টেলিভিশন চ্যানেল, ওয়েবসাইট, রেডিও, সংবাদপত্র, ইমেইল ক্যাম্পেইন এবং অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট জুড়ে বিস্তৃত। এর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ইনফ্লুয়েন্সারদের একটি ব্রিগেড বা দল রয়েছে। এই সমর্থক নেটওয়ার্কটি আদর্শগতভাবে এই দল এবং অন্যান্য ইরানি মিত্রদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে তারা যে সবসময় পারিশ্রমিক পান তা নয়। তারা হুতিদের আদর্শের সাথে মিল রেখে বিভিন্ন কনটেন্ট ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।
ভোরের আকাশ/আ.র