ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব কেন প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প

আলোচনার টেবিলে ফেরার আগে তেহরান অতিরিক্ত ও অবাস্তব অর্থনৈতিক এবং সামরিক ছাড় দাবি করায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ অব্যাহত রাখলে ইরান আমেরিকার অনুকূল শর্তে আরও বড় ছাড় দিতে বাধ্য হবে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, আলোচনার টেবিলে ফেরার আগেই তেহরান মার্কিন নৌঘাঁটি অবরোধ প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো অতিরিক্ত ছাড় দাবি করেছিল। আর এ কারণেই ওয়াশিংটন এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
মার্কিন প্রশাসনের বিশ্বাস, তেহরান তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে না এবং এটি ছিল মূলত একটি অগ্রহণযোগ্য শর্ত চাপানোর চতুর চেষ্টা। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এই চুক্তি চাচ্ছে কারণ তারা যুদ্ধে খুব খারাপভাবে হেরে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ঘোষণা করেছিলেন। প্রস্তাবটিতে ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ অবমুক্তকরণ, দেশটির তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল।
তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এই প্রস্তাবকে অতিরিক্ত শর্তযুক্ত উল্লেখ করে খারিজ করে দেন। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন কূটনীতিকের বিরুদ্ধে পুরোনো ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার পালটা অভিযোগ করেন। তিনি জানান, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলেই কেবল তারা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে প্রস্তুত, যা তাদের ন্যায্য অধিকার। তবে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের বিগত দুই বছরের আচরণে হতাশা প্রকাশ করে তিনি কূটনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
এদিকে ট্রাম্প ইরানের শান্তিপ্রস্তাব উড়িয়ে দিয়ে তেহরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় বিমান হামলার কথা বিবেচনা করছেন। তবে পাশাপাশি তিনি ‘অ্যাক্সিওস’ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে আগামী সপ্তাহেই হয়তো পুনরায় আলোচনা শুরু হতে পারে।
ট্রাম্পের মতে, ইরান একটি চুক্তি করতে চাইছে ঠিকই, তবে এটা এমন কোনো চুক্তি নয় যা তিনি করতে চান। ইরান নিজেদের অবস্থান নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা সোমবারই শুরু হতে পারে।
ভোরের আকাশ/আ.র