যৌথ পারমাণবিক মহড়ায় অংশ নিলো যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে ইউরোপের নিরাপত্তা জোরদার করতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স প্রথমবারের মতো যৌথ পারমাণবিক হামলা অনুকরণে সামরিক মহড়া পরিচালনা করেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্যারিসের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
ইউরোপে ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চিত অবস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গত বছর নিজ নিজ পারমাণবিক সক্ষমতা সংক্রান্ত সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।
ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী ক্যাথারিন ভোত্রাঁ বলেন, ‘স্বাধীন পারমাণবিক বাহিনী থাকার অর্থ এই নয় যে তাদের মধ্যে সমন্বয় করা যাবে না। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আমাদের পারমাণবিক সহযোগিতা ক্রমশ সুদৃঢ় হচ্ছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের একটি পারমাণবিক মহড়ায় অংশ নেয় ব্রিটিশ টাইফুন যুদ্ধবিমান।’
ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, উত্তর-পূর্ব ফ্রান্সের সেন্ট-ডিজিয়ার বিমানঘাঁটি থেকে ফরাসি যুদ্ধবিমানগুলো উড্ডয়নের পর ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) টাইফুন ফাইটার জেটগুলো সেগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যায়। ‘রামি’ নামক এই মহড়ায় মূলত পারমাণবিক হামলার সিমুলেশনে অংশ নেয় দুই দেশ।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, ‘আমাদের শত্রুদের সতর্ক থাকার বিকল্প নেই। ইউরোপের নিরাপত্তা এবং শান্তি বজায় রাখতে সাহায্যকারী পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থা ধরে রাখতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এক হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
চলতি বছরের মার্চে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, পারমাণবিক অস্ত্রাগার সম্প্রসারণ করবে তার দেশ। সে সময় ইউরোপীয় অংশীদারদের যৌথ মহড়া এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূখণ্ডে সাময়িকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ফরাসি সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের একটি প্রস্তাবও দেন তিনি।
সাবমেরিন ও আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ২৯০টি পারমাণবিক অস্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণে বছরে প্রায় ৫৬০ কোটি ইউরো ব্যয় করে ফ্রান্স। এটি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের কাছে বর্তমানে ২২৫টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এর বিপরীতে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই ৫ হাজারেরও বেশি করে পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে।
ভোরের আকাশ/আ.র