ভারতের হাতে ১৯০ পারমাণবিক ওয়ারহেড

ভারতের কাছে বর্তমানে প্রায় ১৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে এবং নতুন অস্ত্রব্যবস্থা তৈরির কাজ চলমান থাকায় ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আভাস দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস (এফএএস) তাদের ‘ইন্ডিয়াস নিউক্লিয়ার উইপনস–২০২৬’ শীর্ষক এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
উন্মুক্ত উৎসের তথ্য, বিভিন্ন দেশের সরকারি নথি এবং বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটি এই প্রাক্কলন করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়ন করে চলেছে। কয়েকটি নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা ইতোমধ্যে মোতায়েন হয়েছে, আরও কয়েকটি তৈরি হচ্ছে। এগুলো পারমাণবিক সক্ষম বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সমুদ্রভিত্তিক ব্যবস্থার পরিপূরক বা বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
২০২৬ সালের শুরুতে ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ফিসাইল ম্যাটেরিয়ালসের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের কাছে প্রায় ৭৩০ কেজি অস্ত্র-গ্রেড প্লুটোনিয়াম রয়েছে, যার সম্ভাব্য তারতম্য প্রায় ১৭০ কেজি।
এদিকে প্রতি ওয়ারহেডে আনুমানিক ৪ কেজি প্লুটোনিয়াম প্রয়োজন হলে এই মজুত দিয়ে ১৪০ থেকে ২২৫টি ওয়ারহেড তৈরি করা সম্ভব। তবে অস্ত্রের নকশা সম্পর্কে অনিশ্চয়তার কারণে এই হিসাব পুরোপুরি নির্ভুল নয়।
এফএএস বলছে, ভারত তার সব প্লুটোনিয়াম অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করেনি, কিছু মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ১৯৯৮ সালের পারমাণবিক পরীক্ষায় ফিশন নকশা যাচাই হলেও বুস্টেড ফিশন ও থার্মোনিউক্লিয়ার অস্ত্র বিষয়ে ভারতের সক্ষমতা এখনো অনিশ্চিত।
ভারত ১৯৯৮ সালের পরীক্ষার পর ‘নো-ফার্স্ট-ইউজ’ (এনএফইউ) নীতি গ্রহণ করে এবং এখনো তা অনুসরণ করছে। সরকারের ভাষ্য, ভারতের লক্ষ্য হলো ‘বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধক্ষমতা’ বজায় রাখা।
প্রতিবেদনের মতে, ভবিষ্যতে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আরও বাড়তে পারে। তবে এর আকার শুধু প্লুটোনিয়ামের মজুতের ওপর নয়, কতগুলো ও কী ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ভারতের হাতে রয়েছে, তার ওপরও নির্ভর করবে।