‘কংগ্রেসের কারণে সংসদ অচল’: রাহুলকে ‘ব্যর্থ পণ্য’ বলে মোদির কটাক্ষ

ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সংসদ অচল করা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা ও অন্য বিরোধী নেতাদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার এক গণমাধ্যম সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি কংগ্রেস ও গান্ধী পরিবারের কঠোর সমালোচনা করেন।
রাহুল গান্ধীর নাম সরাসরি উল্লেখ না করেই তাঁকে বারবার সামনে আনার চেষ্টা নিয়ে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেন মোদি। একই সঙ্গে দলটিকে ‘পরজীবী’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, এটি ‘নগর নকশালদের’ প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
মোদি বলেন, বিশ্ব যখন নতুন বিশ্বব্যবস্থা ও কাঠামোর সন্ধান করছে, তখন কিছু মানুষ ভারতে বিশৃঙ্খলা তৈরির স্বপ্ন দেখছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের শক্তিশালী ভাবমূর্তি তুলে ধরার পরিবর্তে কংগ্রেস দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা চলার সময়ে দেশের সাফল্য ও সক্ষমতা তুলে ধরা প্রয়োজন। কিন্তু কংগ্রেসের নেতারা বিদেশে গিয়ে ভারতের সমালোচনা করছেন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য বিদেশিদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
রাহুলকে ইঙ্গিত করে কটাক্ষ
কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে মোদি বলেন, দলটি বারবার তাদের একজন নেতাকে সামনে আনার চেষ্টা করছে। সরাসরি রাহুল গান্ধীর নাম উল্লেখ না করে তিনি কংগ্রেসের এই প্রচেষ্টাকে ‘ব্যর্থ পণ্য’ পুনরায় চালুর চেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেন।
মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র শ্রীহরিকোটা থেকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রসঙ্গ টেনে ব্যঙ্গ করে মোদি বলেন, বছরে যতবার সেখান থেকে কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হয়, তার চেয়েও বেশি বার কংগ্রেস তাদের নেতাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।
কংগ্রেসের রাজনৈতিক ব্যর্থতা নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই উল্লেখ করে মোদি বলেন, নিজেদের পরিবারের ব্যর্থতা আড়াল করতে গিয়ে দলটির নেতারা ভারতের সাফল্য ও অর্জন নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন। তাঁর ভাষায়, কংগ্রেসের অবস্থা এখন এমন হয়েছে যে ‘আঙুর ফল টক’ ভেবে তারা মূল লতাটিই কেটে ফেলতে উদ্যত হয়েছে।
গান্ধী পরিবারকে কংগ্রেসের জন্য বড় বোঝা হিসেবে বর্ণনা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা ব্যক্তিগত আলোচনায় বিষয়টি স্বীকার করলেও প্রকাশ্যে এ নিয়ে কথা বলেন না। মোদি বলেন, গান্ধী পরিবার কংগ্রেসের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা বিষয়টি উপলব্ধি করলেও নীরব থাকাকেই বেছে নিচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
কংগ্রেসের সংসদীয় কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে মোদি বলেন, দলটির হট্টগোলের কারণে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে আগ্রহী অন্য বিরোধী নেতারাও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন না। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলগুলোর মধ্যে অনেক মেধাবী ও তরুণ সংসদ সদস্য রয়েছেন, যাঁরা সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরতে চান এবং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের মতামত জানাতে আগ্রহী। কিন্তু কংগ্রেস একজন নির্দিষ্ট নেতাকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে গিয়ে সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করছে। এতে অন্য বিরোধী সংসদ সদস্যদের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মোদি আরও বলেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা এবং ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য আন্দোলন করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কংগ্রেসের কর্মকাণ্ডের কারণে এসব উদ্যোগও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও জোরালো করে মোদি দলটিকে ‘পরজীবী’ হিসেবে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে দলটি ‘নগর নকশালদের’ প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মোদির দাবি, কংগ্রেস অন্যদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে চায় না এবং দলটির নিজস্ব চিন্তাভাবনার সক্ষমতাও কমে গেছে। একসময় যারা বনাঞ্চলে সহিংস কর্মকাণ্ড চালাত, তারা এখন কংগ্রেসে অনুপ্রবেশ করে দেশকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কংগ্রেসের সমালোচনার পাশাপাশি ভারতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকার ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বড় স্বপ্ন দেখা এবং প্রতিকূলতাকে সুযোগে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মোদি বলেন, ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি দেশটির মানুষের আত্মবিশ্বাস। ১৪০ কোটি নাগরিকের স্বপ্ন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে নতুন উদ্ভাবন, নতুন পথ তৈরি এবং উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ভারতের সাফল্যকে বৈশ্বিক সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। সূত্র : দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
ভোরের আকাশ/সু.পা