ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপকে সমর্থন ব্রিটেনের

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া নতুন পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে ব্রিটেন। তবে একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ খোলা রাখার কথাও জানিয়েছে দেশটি।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটিশ ট্রেজারি মন্ত্রী জন হিলি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ইরান যাতে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে ব্রিটেন দৃঢ়ভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ‘অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড’ বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এর লক্ষ্য হলো ইরানকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থা থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করা।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও তেল খাতের সঙ্গে যুক্ত ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজ রয়েছে। ইরানের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক লেনদেনের অনুমতি দেওয়া কয়েকটি সাধারণ লাইসেন্সও বাতিল করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।
এ ছাড়া ইরানের তেল পরিবহনে ব্যবহৃত কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কোম্পানি ও জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্তি রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, চীন, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের বিধিনিষেধের কারণে প্রণালিটি প্রায় বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।
১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছিল। তবে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার পর আবারও চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে।
ইরান দাবি করছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতে রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর বিপরীতে দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ‘খোলা ও সচল’ রয়েছে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ