দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়ল বিদ্রোহের ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। দেশটির একটি আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে।
রায়ে বলা হয়, ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি সাংবিধানিক সীমা অতিক্রম করে সামরিক আইন জারির উদ্যোগ নেন। হঠাৎ ঘোষিত এ পদক্ষেপ দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই তা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার এমন ব্যবহার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী।
রয়টার্স জানায়, সরকার পক্ষের আইনজীবীরা ইউনের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সিউলের জেলা আদালত তার বয়স ও আগের কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তা এড়িয়ে যায়।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইনে বিদ্রোহের পরিকল্পনার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বিচারে এটিই ইউনের পাওয়া সর্বোচ্চ সাজা। আটটি বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া ইউন এর আগে গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া ও জালিয়াতির অভিযোগে পৃথক আরেকটি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন।
জানুয়ারিতে সরকার পক্ষের আইনজীবীরা বলেছিলেন, “ইউনের অসাংবিধানিক ও অবৈধ জরুরি সামরিক আইন ঘোষণা জাতীয় পরিষদ ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতাকে ক্ষুণ্ণ করেছিল আর প্রকৃতপক্ষে উদার গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক ধারাকে ধ্বংস করছিল।”
দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বশেষ ২০১৬ সালে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেশটিতে ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি।
ইউনের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সিউলের কেন্দ্রীয় জেলা আদালতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। এ দিন সেখানে প্রচুর পুলিশ উপস্থিত ছিল। পুলিশের বাসগুলো দিয়ে আদালত ভবনের চারদিকে একটি নিরাপত্তা বেষ্টনি তৈরি করা হয়েছিল।
ইউন (৬৫) তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। রক্ষণশীল সাবেক সরকার পক্ষের আইনজীবী ইউন আদালতে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, প্রেসিডেন্টের সামরিক আইন জারি করার কর্তৃত্ব আছে আর তার এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল বিরোধী দলগুলোকে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া বিষয়ে সতর্ক করা।
ক্ষমতাচ্যুত ইউন বর্তমানে সিউলের ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি আছেন। তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভোরের আকাশ/এনএস