শাশুড়িকে কাঁধে নিয়ে তপ্ত রোদে ৯ কি.মি. হেঁটে ব্যাংকে গেলেন পুত্রবধূ

হৃদয়বিদারক ও মানবিকতার একটি ঘটনা ঘটেছে ভারতের ছত্তিশগড়ের সরগুজা জেলায়। মাথার ওপর বৈশাখের প্রখর সূর্য, পায়ের নিচে তপ্ত পিচঢালা পথ। চারদিকে তীব্র গরমে যখন স্বাভাবিক মানুষের টিকে থাকাই কষ্টকর, তখন সেই গনগনে রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এক নারী। তবে তিনি একা নন, তাঁর পিঠে পরম মমতায় জড়িয়ে আছেন ৯০ বছর বয়সী এক অশীতিপর বৃদ্ধা। হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই শরীরের শেষ শক্তি দিয়ে ৯ কিলোমিটার পধ হেঁটেছে এই নারী। পিঠে থাকা বৃদ্ধা তাঁর জন্মদাত্রী মা নন, বরং শাশুড়ি। আর এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পেছনে রয়েছে এক পুত্রবধূর অনন্য ভালোবাসার গল্প—মাত্র ৫০০ রুপির মাসিক সরকারি পেনশনের জন্য এই সংগ্রাম।
হৃদয়বিদারক ও মানবিকতার এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের ছত্তিশগড়ের সরগুজা জেলায়। এক পথচারীর ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। একদিকে প্রশাসনিক অব্যবস্থার সমালোচনা, অন্যদিকে ওই পুত্রবধূর প্রতি শ্রদ্ধা ও প্রশংসায় ভাসছেন নেটিজেনরা।
শাশুড়ির সেবায় অনন্য পুত্রবধূ
জানা গেছে, পুত্রবধূর নাম সুখমানিয়া। তিনি কুনিয়া এলাকার জঙ্গলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। গত চার মাস ধরে তাঁর ৯০ বছর বয়সী শাশুড়ি সরকারি পেনশন পাচ্ছিলেন না। ব্যাংকের ‘কেওয়াইসি’ হালনাগাদ না থাকায় পেনশন বন্ধ হয়ে যায়।
অভাবের সংসার, সঙ্গে বৃদ্ধা শাশুড়ির ওষুধ-পথ্যের খরচ—সব মিলিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন পরিবারটি। কোনো যানবাহনের ব্যবস্থা করতে না পেরে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরের মাইনপাট শহরের সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার শাখার উদ্দেশে শাশুড়িকে পিঠে তুলে রওনা দেন সুখমানিয়া।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় প্রশাসনের। মাইনপাট জনপদ পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খুশবু শাস্ত্রী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জানুয়ারি মাসে সর্বশেষ পেনশন দেওয়া হয়েছিল। এরপর কেওয়াইসি জটিলতার কারণে চার মাস পেনশন বন্ধ ছিল।
তিনি আরও জানান, ওই পুত্রবধূ ব্যাংকে এসে প্রয়োজনীয় নথি হালনাগাদ করার পর আটকে থাকা চার মাসের মোট ২ হাজার রুপি পরিশোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আর ভোগান্তি না পোহাতে প্রতি মাসে পেনশন বৃদ্ধার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
ভোটের সময় বাড়িতে গেলে অন্য সময় কেন নয়?
ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই রাষ্ট্রীয় সেবার দুর্বলতার সমালোচনা করেছেন। রাজ্যের সাবেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী টিএস সিং দেও বলেন, ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিরা মানুষের দরজায় গিয়ে ভোট চান, কিন্তু নির্বাচনের পর এমন মানবিক সংকটে তাদের ভূমিকা দেখা যায় না। বয়োবৃদ্ধ ও অসহায় মানুষের পেনশন যেন ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হওয়া উচিত। সূত্র: এনডিটিভি
ভোরের আকাশ/সু.পা