টানা বৃষ্টিতে মহারাষ্ট্রে পাহাড় ও ভবন ধসে নিহত ১৩

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে কয়েক দিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী মুম্বাই, পুনে, ঠানে, রায়গড় ও পালঘরসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা। অবিরাম বর্ষণে পাহাড়ধস, ভবন ধস, জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, পুনে জেলার মাভাল উপজেলার লোহাগড় দুর্গসংলগ্ন এলাকায় গভীর রাতে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে কয়েকটি বাড়ি চাপা পড়ে। এতে অন্তত ৩০ জন আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
সোমবার সকালে ধসে পড়া একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলেন নন্দু তিকোনে (৬০), মৌলি তিকোনে (৩০) ও অনিতা তিকোনে (৫৫)। আটকে পড়া অন্যদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে মুম্বাইয়ের মানখুর্দ এলাকায় রোববার রাতে একটি বাড়ি ধসে ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই শিশু, যাদের বয়স দুই থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। এছাড়া ঠানে জেলার কামবরী নদীতে ডুবে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে দুর্যোগজনিত বিভিন্ন ঘটনায় মহারাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
ভারী বৃষ্টির কারণে সোমবার ভোরে মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের দ্বিতীয় টানেলের প্রস্থানমুখে পাহাড়ধস নামে। নিরাপত্তার স্বার্থে ভোর ৪টা থেকে এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় মহারাষ্ট্র স্টেট রোড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (এমএসআরডিসি)। পাশাপাশি পুরোনো মুম্বাই-পুনে সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সেখানেও যান চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সড়কপথে যাতায়াত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে রেল যোগাযোগেও। কেন্দ্রীয় রেলওয়ে জানিয়েছে, কারজাট-লোনাভলা ভোরঘাট সেকশনে একাধিক স্থানে পাহাড়ধসের কারণে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ১৬টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং আরও নয়টি ট্রেন বিকল্প পথে পরিচালনা করা হচ্ছে। বাতিল হওয়া ট্রেনগুলোর মধ্যে ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, ডেকান এক্সপ্রেস, ডেকান কুইন ও প্রগতি এক্সপ্রেসও রয়েছে।
মহারাষ্ট্র আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আপাতত বৃষ্টির তীব্রতা কমার সম্ভাবনা নেই। মুম্বাই, পুনে, রায়গড়, ঠানে ও পালঘরে আরও ভারী বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মুম্বাই ও পুনের জন্য লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পরিস্থিতির কারণে সোমবার মুম্বাইয়ের স্কুল-কলেজ, সরকারি দপ্তরসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। এদিকে দুর্যোগে নিহতদের পরিবারের জন্য পাঁচ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে, আনন্দবাজার
ভোরের আকাশ/সু.পা