এআইয়ের কারণে ২১০০ সালের মধ্যে মানবজাতি বিলুপ্তির শঙ্কা

চিকিৎসাবিষয়ক স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এর একটি নতুন বৈশ্বিক ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, পারমাণবিক যুদ্ধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষতিকর অপব্যবহারের কারণে ২১০০ সালের মধ্যে মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
৩৫ জন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত ল্যানসেট কমিশন আগামী ৭৫ বছরে মানুষের স্বাস্থ্য ও অস্তিত্বের জন্য মোট ১৭টি বড় বিপর্যয়কর হুমকি চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে এই দুটিকে শীর্ষ স্তরের 'বিলুপ্তির ঝুঁকি' হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, হুমকিগুলো একটি-অপরটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এগুলোকে আলাদাভাবে না দেখে একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। আশার কথা হলো, এখনো প্রতিটি হুমকি মোকাবিলার বাস্তবসম্মত উপায় অবলম্বনের সুযোগ আছে।
ল্যানসেট কমিশনের কো-চেয়ার ও ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভালুয়েশন’-এর পরিচালক ক্রিস্টোফার মারে বলেন, বিশ্বনেতারা যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, সেগুলোই আগামী প্রজন্মের স্বাস্থ্যের অবস্থা নির্ধারণ করবে।
তালিকাটি তৈরির জন্য কমিশন একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। প্রতিটি হুমকির কারণে সৃষ্ট অসুস্থতা, প্রতিবন্ধকতা বা অকালমৃত্যুর ফলে মানুষের সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন থেকে কতগুলো বছর হারিয়ে যেতে পারে- তার একটি হিসাব দাঁড় করিয়েছেন বিশ্লেষকরা। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই বিশেষ পদ্ধতি ‘ডিজ্যাবিলিটি-অ্যাডজাস্টেড লাইফ ইয়ার্স’ বা ড্যালিজ নামে পরিচিত।
ল্যানসেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়োওয়েপন (জীবাণু অস্ত্র) তৈরিসহ এআইয়ের ক্ষতিকর ব্যবহার, পারমাণবিক সংঘাত ও এর জেরে দেখা দেওয়া দুর্ভিক্ষের কারণে আগামী ৭৫ বছরের মধ্যে মানবজাতি বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যদিও এসব ঘটার আশঙ্কা এখনো বেশ কম, তবে পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হলে বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে বিপুল পরিমাণ ধূলিকণা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটি পৃথিবীতে সূর্যের আলো প্রবেশে বাধা তৈরি করলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে।
প্রতিবেদনটির পাশাপাশি একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে ল্যানসেট। সেখানে বলা হয়েছে, এসব আশঙ্কা যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে ক্ষতিকর প্রভাব মানবজাতির চরম ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনবে।
আরও কিছু ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। সেগুলোর কারণে মানুষের সুস্থ জীবন থেকে সম্মিলিতভাবে ১০০ কোটির বেশি বছর হারিয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে আছে- বায়ুদূষণ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা ওষুধের কার্যকারিতা হারানো, শিশুদের অপুষ্টি এবং জলবায়ু বিপর্যয়। এছাড়া প্রচলিত সংঘাত, বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়া, অতিরিক্ত মদ্যপান, উচ্চ রক্তচাপ, আয়বৈষম্য, শিক্ষার নিম্নহার, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট মহামারি, স্থূলতা, নাজুক মানসিক স্বাস্থ্য ও ধূমপান তালিকায় স্থান পেয়েছে।
ল্যানসেট কমিশনের সদস্য ও ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) সংক্রামক রোগ বিভাগের অধ্যাপক ইব্রাহিম আবুবকর বলেন, এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য ভয় দেখানো নয়। মানবজাতি যেসব হুমকির মুখে আছে সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
ইব্রাহিম আবুবকর আরও বলেন, ‘আপনি যদি বৈশ্বিক বা জাতীয় পর্যায়ের একজন নীতিনির্ধারক হন, তবে ভবিষ্যতে আপনাকেও এসব সম্ভাব্য হুমকির মুখোমুখি হতে হবে। আর যদি এখনই পদক্ষেপ নেন, তবে ঝুঁকিগুলোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।’
ভোরের আকাশ/আ.র