কুইন্সল্যান্ডে হাঙরের হামলায় মৃত্যু ১

অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে রোববার (২৪ মে) হাঙরের হামলায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে দেশটিতে এটি তৃতীয় প্রাণঘাতী হাঙর হামলার ঘটনা। পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৩৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি কেনেডি শোল নামের একটি অফশোর প্রবালপ্রাচীর এলাকায় পানিতে নামার পর হাঙরের হামলার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পানি থেকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী বোট র্যাম্পে আনা হলেও সেখানে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সময় দুপুরের ঠিক আগে হাল রিভার হেডস বোট র্যাম্পে জরুরি সেবাকর্মীদের ডাকা হয় বলে জানায় পুলিশ। পরে তাকে পানি থেকে উদ্ধার করে সেখানে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুইন্সল্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, বোট র্যাম্পেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলটি জনপ্রিয় পর্যটন শহর কেয়ার্নস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। পুলিশ নিহত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি। তবে স্থানীয় কয়েকজন চার্টার বোট অপারেটর এএফপিকে জানিয়েছেন, তিনি সেখানে স্পিয়ার ফিশিং করছিলেন।
কেনেডি শোল গভীর পানির একটি পরিচিত মাছ ধরার এলাকা। ‘হুকড আপ ফিশিং’-এর জেরার্ড পাইক বলেন, রোববার তার নৌকা কেনেডি শোল থেকে প্রায় ছয় মাইল দূরে ছিল, যেখানে তারা বড় আকারের বুল শার্কের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন।
তিনি বলেন, “আমরা স্প্যানিশ ম্যাকারেল ধরছিলাম। তখন ছয়টি হাঙরের একটি দল নৌকার খুব কাছে এসে একটি মাছ নিয়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, “আমরা পানিতে নামতে চাইনি। পরে রেডিওতে জরুরি সেবার বার্তা শুনি।”
আরেকটি চার্টার বোট অপারেটর প্রতিষ্ঠান ‘মিশন বিচ ডাইভ’-এর রব পারসোনেজ বলেন, ওই এলাকায় হাঙরের হামলা খুবই বিরল হলেও বুল শার্ক ও টাইগার শার্কের উপস্থিতি রয়েছে।
তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা খুব একটা ঘটে না। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।” তার মতে, হাঙরগুলো অনেক সময় জেলেদের সঙ্গে খাবারের প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়ে। গত সপ্তাহে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় স্পিয়ার ফিশিংয়ের সময় আরেকজনের মৃত্যুর পর এটি চলতি বছরে তৃতীয় প্রাণঘাতী হাঙর হামলা।
কুইন্সল্যান্ডের বন্ড ইউনিভার্সিটির হাঙর বিশেষজ্ঞ ড্যারিল ম্যাকফি বলেন, উত্তর কুইন্সল্যান্ডে প্রাণঘাতী হাঙর হামলা অত্যন্ত বিরল। তার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর থেকে কুইন্সল্যান্ডে ছয়টি প্রাণঘাতী হাঙর কামড়ের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও জানান, টাউনসভিল ও কেয়ার্নসের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকায় সর্বশেষ প্রাণঘাতী হামলা ঘটেছিল ১৯৯০ সালে।
ম্যাকফি বলেন, বর্তমানে নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি কোন প্রজাতির হাঙর হামলা চালিয়েছে। সম্ভাব্যভাবে এটি বুল শার্ক বা টাইগার শার্ক হতে পারে। তিনি আরও বলেন, স্পিয়ার ফিশিং অন্যান্য জলক্রীড়ার তুলনায় আলাদা ঝুঁকিপূর্ণ এবং এর জন্য ভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। সূত্র: এএফপি
ভোরের আকাশ/সু.পা