হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মার্কিন প্রস্তাবে লেবাননের আনুষ্ঠানিক জবাব

হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের শর্তে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের যে প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে, তাতে আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে লেবানন। সোমবার (২১ জুলাই) লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই জবাব মার্কিন দূত টম ব্যারাকের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
লেবাননের প্রেসিডেন্টের দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জানায়, বৈরুতের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে প্রেসিডেন্ট আউন ও মার্কিন দূতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে লেবাননের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয় এবং তারই ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে লেবানের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়।
গাজায় বাস্তুচ্যুতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরল জাতিসংঘ
অন্যদিকে, গাজার মানবিক সংকট নিয়ে জাতিসংঘ জানিয়েছে, অঞ্চলটির প্রায় ৮৭.৭ শতাংশ এলাকাই এখন ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণে বা বাস্তুচ্যুতির নির্দেশাধীন রয়েছে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফান দুজারিক জানান, প্রায় ২১ লাখ মানুষ গাজায় ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন ও অনিরাপদ অবস্থায় জীবনযাপন করছে, যাদের বেশিরভাগের কাছেই কোনো প্রাথমিক সেবা নেই।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস (OCHA)-এর বরাতে তিনি বলেন, গাজায় ১৩ লাখের বেশি মানুষ আশ্রয়হীন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাবে দিন কাটাচ্ছে। তীব্র ঠান্ডা, অতিরিক্ত ভিড়, আর্দ্রতা এবং একাধিকবার তাঁবু খোলাবন্ধ করার কারণে আশ্রয় সামগ্রীর কার্যকারিতা দ্রুত কমে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা, আর অন্যদিকে গাজায় মানবিক সংকট—দুই মিলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে লেবাননের প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় কী প্রভাব ফেলে।
ভোরের আকাশ//হ.র