‘তিক্ততা ভুলে’ কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায় ইরান

সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে কাতারের সঙ্গে আবারও সহযোগিতার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানি জনগণের সব আইনগত অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হবে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তার আইনগত অধিকারের বাইরে কোনো কিছু চায় না এবং কোনো চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, আগে ইরান ও কাতার বেশ কিছু যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এসব চুক্তি বাস্তবায়ন পিছিয়ে যায় এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হয়।
পেজেশকিয়ান আরও অভিযোগ করেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও সহযোগিতা গড়ে উঠুক—ইসরায়েল তা চায় না। তার মতে, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে ইরান ও কাতার আবারও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে পারবে। দুই দেশের আগের যৌথ উদ্যোগগুলোও পুনরায় এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও কাতারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে তেহরান। পেজেশকিয়ানের সর্বশেষ বক্তব্যে সেই সম্পর্ককে আবারও সক্রিয় ও সহযোগিতামূলক ধারায় ফেরানোর আগ্রহ স্পষ্ট হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও কাতারের সম্পর্কও বিভিন্ন সময় চাপের মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, তাসনিম নিউজ
ভোরের আকাশ/ইউএম