যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পরও লেবানন থেকে সেনা সরাতে রাজি নয় ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা এলেও লেবানন থেকে সেনা সরানোর কোনও ইঙ্গিত দিচ্ছে না ইসরায়েল। দেশটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবানন, সিরিয়া এবং গাজায় দখল করা এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অবস্থান অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, লেবাননের পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালালে তেহরানের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে জবাব দেয়া হবে।
বার্তাসংস্থা আনদোলু বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি হলেও দক্ষিণ লেবাননে দখল করে রাখা এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সরানো হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। সোমবার (১৫ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দক্ষিণ লেবানন, সিরিয়া এবং গাজায় দখল করা এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের অবস্থান অব্যাহত রাখবে।
কাটজ বলেন, ‘বর্তমান বা ভবিষ্যতের যেকোনও চাপ সত্ত্বেও’ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি মানবে না ইসরায়েল। তিনি আরও দাবি করেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো স্থানীয় বাসিন্দামুক্ত করা হবে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অবস্থান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছেও স্পষ্ট করেছেন। কাটজ বলেন, ‘আমি একই বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকেও স্পষ্টভাবে জানিয়েছি।’
কাটজ সতর্ক করে বলেন, লেবাননের পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইরান যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালায়, তাহলে তেহরানের ওপর ‘সর্বশক্তি দিয়ে’ আঘাত হানা হবে।
এদিকে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, ‘ট্রাম্পের চুক্তি তেল আবিবকে কোনও কাজ করতে বাধ্য করতে পারে না।’
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ঘোষণা দেন যে ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তির আওতায় সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, লেবাননের সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে এই ঘোষণার পরও সোমবার দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা চালিয়ে গেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
লেবাননের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১১ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১৫ লাখেরও বেশি মানুষ।
ভোরের আকাশ/এনএস