ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরাতে সক্রিয় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলিত সামরিক অভিযানের পর যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় মার্কিন প্রশাসন। এর পরপরই নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যার অংশ হিসেবে তেহরানকে দেওয়া হয়েছে ৩০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রস্তাব। এই তথ্য উঠে এসেছে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবি, ইরান যেন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ— অর্থাৎ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম উৎপাদন— চিরতরে বন্ধ করে। এর পরিবর্তে ইরানকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বেসামরিক ব্যবহার উপযোগী একটি পরমাণু প্রকল্প স্থাপনের, যার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই বিনিয়োগ সরাসরি ওয়াশিংটনের তহবিল থেকে নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর পক্ষ থেকেই এই অর্থায়ন করা হবে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার তহবিল মুক্ত করার পাশাপাশি একাধিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা বাতিলের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তেহরানের রাজি হলে এসব ছাড়ের বাস্তবায়ন হতে পারে।
সিএনএনের তথ্যমতে, গত ২০ জুন হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে একটি গোপন বৈঠক হয়। সেখানে উপসাগরীয় অংশীদারদের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নতুন পরমাণু প্রকল্প গঠনের প্রস্তাব, ফরদো স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি এবং বিনিয়োগ কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, এই আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এর অনেক বিষয়ই পরিবর্তনশীল।
যদিও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকে বসতে পারে, তবে তেহরান সে বিষয়ে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে বলেন, এমন কোনো বৈঠকের বিষয়ে তাদের জানানো হয়নি। পাশাপাশি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে নতুন করে আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনা নেই।
ভোরের আকাশ/হ.র