অস্ট্রেলিয়ায় উপনির্বাচনে ডানপন্থী দলের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী জনতাবাদী দল (ওয়ান ন্যাশন) প্রথমবারের মতো দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে একটি আসনে জয় পেয়েছে। দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের বিশাল আঞ্চলিক আসন থেকে ফ্যারারে উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছেন দলটির প্রার্থী ডেভিড ফার্লি। এই ফলাফলকে অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভোট গণনার অধিকাংশ শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, দুই প্রার্থী পছন্দনির্ভর গণনায় ফার্লি পেয়েছেন প্রায় ৫৭ শতাংশ ভোট।
অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিশেল মিলথর্প তার থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছেন। যদিও এই ফলাফল প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকারের বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অস্ট্রেলিয়ার অনেক ভোটার ধীরে ধীরে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, বিরোধী লিবারেল পার্টির সাবেক নেতা সুসান লে নেতৃত্ব হারানোর পর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলে এই উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়।
মার্চ মাসে সাউথ অস্ট্রেলিয়া অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে ওয়ান ন্যাশন উল্লেখযোগ্য ভোট পাওয়ার পর এটিই ছিল দলটির জনপ্রিয়তার প্রথম বড় ফেডারেল পরীক্ষা। জয়ের খবর প্রকাশের পর ওয়ান ন্যাশন নেতা পলিন হ্যানসন সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘এটি শুধু ফ্যারারের জয় নয়, এটি অস্ট্রেলিয়ার জয়। ওয়ান ন্যাশন এখন আরো আসনে জয়ের দিকে নজর দিচ্ছে।’
কৃষক থেকে রাজনীতিতে আসা ডেভিড ফার্লি বলেন, ‘বড় দুই দলের ওপর তার আস্থা কম ছিল। তারা ভোটারদের সামনে এক কথা বলে, কিন্তু পার্লামেন্টে গিয়ে ভিন্ন কথা বলে।
জয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ফার্লি বলেন, ‘ওয়ান ন্যাশন এখন আর শুরুতে নেই। আমরা নতুন উচ্চতায় উঠছি।’
অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটাররা প্রার্থীদের পছন্দক্রম অনুযায়ী ভোট দেন। পরে ভোট পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে দুই প্রার্থীর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে কখনো ফেডারেল নিম্নকক্ষে জয় পায়নি ওয়ান ন্যাশন। ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে পলিন হ্যানসন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একটি আসন জিতলেও পরে পুনর্নির্বাচনে হেরে যান। বর্তমানে তিনি সিনেটর হিসেবে পার্লামেন্টে রয়েছেন।
ফ্যারার আসনটি প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত, যা দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়েও বড়। আলবুরি, গ্রিফিথ ও ডেনিলিকুইনের মতো আঞ্চলিক শহরগুলো এই আসনের অন্তর্ভুক্ত। এত দিন আসনটি লিবারেল অথবা ন্যাশনাল পার্টির নিয়ন্ত্রণেই ছিল।
এই উপনির্বাচন নতুন বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর এবং ন্যাশনাল পার্টির নতুন নেতা ম্যাট ক্যানাভানের জন্যও বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। গত বছরের ফেডারেল নির্বাচনে লিবারেল ন্যাশনাল জোট তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের মুখে পড়ে। এর পর থেকেই দল দুটির মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং জনপ্রিয়তা সংকট চলছিল।
ভোরের আকাশ/ইউএম