গাজায় আকাশপথে ত্রাণ পাঠাল কানাডা

প্রায় দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসনের মধ্যে গাজার ক্ষুধার্ত জনগণের জন্য আকাশপথে মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে কানাডা। একইসঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছে দেশটি।
সোমবার (৪ আগস্ট) কানাডার সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা এবং দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে একটি সিসি-১৩০জে হারকিউলিস বিমান ব্যবহার করে গাজায় জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসা ত্রাণ সরবরাহ করা হয়েছে। প্রায় ২১ হাজার ৬০০ পাউন্ড ওজনের ত্রাণসামগ্রী বিমান থেকে ফেলা হয়।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসি জানিয়েছে, এই প্রথমবারের মতো কানাডার সামরিক বাহিনী নিজেদের বিমান থেকে গাজায় মানবিক সহায়তা সরবরাহ করল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বরাতে জানা গেছে, কানাডা ছাড়াও জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, জার্মানি এবং বেলজিয়াম মিলে গাজার বাসিন্দাদের জন্য মোট ১২০টি খাদ্য প্যাকেট সরবরাহ করেছে।
এর আগে গত সপ্তাহে কানাডা সরকার জানিয়েছিল, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের ওপর কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়াবে এবং গাজায় চলমান যুদ্ধ থামাতে ভূমিকা রাখবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গাজায় ইসরায়েলি বাধা ও নিয়ন্ত্রণের কারণে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর পক্ষে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। কানাডা বলেছে, এই বাধা অবিলম্বে তুলে নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে অটোয়ায় অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল বারবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং গাজার মানবিক সংকটের জন্য হামাসকে দায়ী করছে।
উল্লেখ্য, গত মার্চে ইসরায়েল গাজায় খাদ্য সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মে মাসে নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করা হয়, তবে এখনো সেখানে কড়াকড়ি বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে।
ভোরের আকাশ//হ.র