হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানকে যুক্তরাজ্যের সতর্কবার্তা

ইরান হরমুজ বন্ধ করে বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করে রাখতে পারবে না- এমন কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটি স্পষ্ট করে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের বাধা বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে জাতিসংঘের মাধ্যমে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাজ্যের ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি জানান, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যেতে চায় লন্ডন। তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট সীমারেখা থাকা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, ইরানকে আঞ্চলিক হামলা বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল সীমিত করার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, ইরান জাহাজে হামলা, মিত্র দেশগুলোর ওপর আক্রমণ বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির মতো কর্মকাণ্ড চালাতে পারে না। তবুও যুক্তরাজ্য কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষেই রয়েছে এবং তারা যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে আগ্রহী।
সংকট সমাধানে ধীরগতির বিষয়ে তিনি বলেন, আলোচনা চলমান রয়েছে এবং প্রণালিটি পুনরায় চালু করতে যুক্তরাজ্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। লন্ডন ও তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নৌচলাচল নিশ্চিত করা।
ডাউটি সতর্ক করে বলেন, এই প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি, কারণ এটি বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বর্তমান উত্তেজনার কারণে ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক বাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নৌচলাচলের স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন রক্ষায় যুক্তরাজ্য ফ্রান্স, বাহরাইনসহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। লক্ষ্য হলো, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যেন কোনো ধরনের বাধা, শুল্ক বা নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য প্রায় ৯০টি দেশের একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে কাজ করছে। সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে সামরিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা