শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নেপালে ভয়াবহ সহিংসতা-মসজিদে ভাঙচুর, সীমান্ত বন্ধ করলো ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:১০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সীমান্তঘেঁষা নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মসজিদে ভাঙচুরের পর উত্তেজনা ভয়াবহ আকার ধারণ করায় দেশটিতে উচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নেপালের সহিংসতার জেরে দেশটির সঙ্গে নিজেদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিবেশী ভারত। মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, মসজিদে হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নেপালের পারসা জেলার বীরগঞ্জ শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার মানুষ। মুহূর্তের মধ্যে ওই বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করায় ভারতের বিহারের রক্সৌল জেলার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত নেপালের বীরগঞ্জ শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে।নেপালের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মাঝেই জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব ধরনের সীমান্ত পারাপার বন্ধ করে দিয়েছে ভারত।

নেপালে কী ঘটছে?
দেশটির ধানুশা জেলার কামালা পৌরসভায় হায়দার আনসারি ও আমানত আনসারি নামে দুই মুসলিম ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ওই ভিডিওতে ধর্মীয় অবমাননাকর মন্তব্য ছিল। ভিডিওটি দ্রুতই ধানুশা ও পারসা জেলায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

স্থানীয়রা পরে ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তাদের দাবি, ভিডিওটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকি তৈরি করেছে। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই কামালার সাখুয়া মারান এলাকায় একটি মসজিদে ভাঙচুর করা হয়; যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে এবং হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।

বিক্ষোভ চলাকালীন দেশটির বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন অভিযোগ করে, তাদের দেবদেবীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে; যা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তোলে।এই ঘটনার পর সেখানকার বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয় এবং বিক্ষোভ সহিংস হয়ে আকার ধারণ করে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ ও স্থানীয় থানায় ভাঙচুর চালান। 

পুলিশ বলেছে, ‌‌পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে প্রায় অর্ধডজন কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং বীরগঞ্জে কারফিউ জারি রয়েছে।

বন্ধ ভারত-নেপাল সীমান্ত
বীরগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ভারত-নেপাল সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) নেপালের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে।

জরুরি পরিষেবা ছাড়া সীমান্ত দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। ভারত ও নেপালকে সংযুক্ত করা মৈত্রী সেতুতে বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সীমান্ত পার হওয়া প্রত্যেককে কঠোরভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদারে সীমান্তে ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন করেছে ভারত। 

এসএসবি কর্মকর্তারা ও দেশটির অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা বলেছে, মৈত্রী সেতুর পাশাপাশি সহাদেওয়া, মহাদেওয়া, পান্তোকা, সিওয়ান টোলা ও মুশারওয়া এলাকাতেও টহল বাড়ানো হয়েছে। যে কোনও ধরনের অনাকািঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকাতে এসব এলাকায় প্রত্যেকটি কার্যকলাপ নিবিড়ভাবে নজরদারি করা হচ্ছে।

নেপাল থেকে দেশে ফিরছেন ভারতীয়রা
নেপালে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেখানে কর্মরত বহু ভারতীয় পরিযায়ী শ্রমিক দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করা ভারতীয় নাগরিক রাকেশ এনডিটিভিকে বলেন, বীরগঞ্জে সব দোকানপাট ও বাজার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

 তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সেখানে থাকার কোনও মানে হয় না।

তিনি আরো বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার কাজে ফিরব। তার আগে সেখানে থাকার কোনও অর্থ নেই।

ভোরের আকাশ/তা.কা

 

নেপালসীমান্তসহিংসতাভারত

শেয়ার করুন: