ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ১,৭৯১

ভেনেজুয়েলায় গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) পরপর আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭৯১ জনে পৌঁছেছে। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা দিনরাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সোমবার (৩০ জুন) রাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে লা গুয়াইরা বন্দরনগরী অন্যতম। সেখানে স্বজন ও প্রতিবেশীদের খুঁজে পেতে স্থানীয় বাসিন্দারা শাবল, হাতুড়ি ও কোদাল নিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে সরকারি উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও অংশ নিয়েছেন।
দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই দুর্যোগকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ২৫ হাজারের বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্য কাজ করছেন। প্রতিটি জীবন রক্ষা করাই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করলেও সময় গড়িয়ে যাওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে। তবে সোমবার ভোরে ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যা উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্যে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়ে। সর্বশেষ সোমবার কারাকাস ও লা গুয়াইরায় ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে।
এদিকে, বিবিসি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও উদ্ধার অভিযানে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। কারাকাসের পশ্চিমে পাহাড়ি এলাকা এল জুনকুইতোর বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সরকারি সহায়তা খুবই সীমিত। স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের দেওয়া নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর ওপরই দুর্গতদের অনেকটা নির্ভর করতে হচ্ছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা