ফরাসি সেনার মৃত্যুতে ইউনিফিল প্রধানের শোক ও শ্রদ্ধা

লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের এক ফরাসি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ইউনিফিল প্রধান। সোমবার দক্ষিণ লেবাননে গুলিবর্ষণের ঘটনায় নিহত ওই শান্তিরক্ষীর “সেবা ও আত্মত্যাগের” প্রশংসা করে হামলার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।
লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী ইউনিফিলের কমান্ডার মেজর জেনারেল দিওদাতো আবাগনারা বৈরুত বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠানে সার্জেন্ট-শেফ ফ্লোরিয়ান মন্টোরিওর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। মরদেহ ফ্রান্সে পাঠানোর আগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নিহত সেনার অবদান সহকর্মীদের মাধ্যমে বেঁচে থাকবে।
রোববার দক্ষিণ লেবাননের গান্দুরিয়ার কাছে বিস্ফোরক অপসারণকারী ইউনিফিলের একটি টহল দল ছোট অস্ত্রের গুলিতে আক্রান্ত হয়। এতে ৩৯ বছর বয়সী মন্টোরিও নিহত হন এবং আরও তিনজন শান্তিরক্ষী আহত হন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
ইউনিফিল জানিয়েছে, বিচ্ছিন্ন অবস্থানগুলোতে পুনরায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করার সময় টহল দলটি অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার শিকার হয়। এ ঘটনায় হিজবুল্লাহর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। মিশন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে এবং লেবানন সরকারকে দ্রুত দায়ীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।
বৈরুতের অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ ও ফ্রান্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ফরাসি রাষ্ট্রদূত হার্ভে মাগ্রো এবং ইউনিফিলের চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল পল সানজে নিহত সেনাকে ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের শান্তিরক্ষা প্রতিশ্রুতির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউনিফিলে ফ্রান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদানকারী দেশ হিসেবে কাজ করছে। দক্ষিণ লেবাননের অস্থিতিশীল অঞ্চলে টহল, মাইন নিষ্ক্রিয়করণ এবং স্থানীয় বাহিনীকে সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে আসছে তারা।
মন্টোরিওকে তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মরণোত্তর জাতিসংঘ ও লেবাননের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যা রেখে গেছেন।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক এই হামলা সেখানে মোতায়েন শান্তিরক্ষীদের ঝুঁকি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা