ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হিজবুল্লাহর ২৪ হামলা

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অবস্থান, সেনাসদস্য ও সামরিক যান লক্ষ্য করে অন্তত ২৪টি হামলা চালিয়েছে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সোমবার (১১ মে) হিজবুল্লাহ দাবি করে, এসব হামলা ইসরায়েলি সেনাসমাবেশ, মেরকাভা ট্যাংক, ডি-নাইন বুলডোজার, সামরিক সরঞ্জাম এবং খিয়াম, দেইর সেরিয়ান, তায়র হারফা, বায়দাদ, রাশাফ ও নাকোরার মতো সীমান্ত এলাকায় নতুন স্থাপিত কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
গোষ্ঠীটি জানায়, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন এবং দক্ষিণ লেবাননের গ্রাম ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এসব পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
এই সামরিক অভিযানে হিজবুল্লাহ ড্রোন, রকেট, কামানের গোলা এবং গাইডেড মিসাইল বা নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। বেশ কয়েকটি হামলায় ‘সুনিশ্চিত আঘাত’ হানার দাবিও করেছে তারা।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ জানিয়েছে, লেবানন থেকে ড্রোন অনুপ্রবেশের খবরের পর রোববার গভীর রাতে ইসরায়েলের আপার গ্যালিলি অঞ্চলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের বিমান বাহিনী লেবানন থেকে আসা একটি ‘সন্দেহজনক আকাশযান’ ভূপাতিত করেছে। ইসরায়েল এই ঘটনাকে হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতি সমঝোতা লঙ্ঘনের ‘আরেকটি ঘটনা’ বলে অভিহিত করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এবং পরে এর মেয়াদ মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাড়ানো হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রতিদিন লেবাননের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালাচ্ছে এবং হিজবুল্লাহর সঙ্গে নিয়মিত গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ছে।
গত ২ মার্চ থেকে লেবাননের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৪৬ জন নিহত এবং ৮ হাজার ৬৯৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বর্তমানে ইসরায়েল লেবাননের ভূখণ্ডে একটি তথাকথিত ‘বাফার জোন’ বা নিরাপত্তা বলয় বজায় রেখেছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ১৪ ও ১৫ মে ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আন্তর্জাতিক মহল আশা করছে, এই আলোচনার মাধ্যমে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে। তবে সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলা শান্তি আলোচনার পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ভোরের আকাশ/সু.পা