পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন
কোচবিহারের নির্বাচনী জনসভায় নরেন্দ্র মোদি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণা উপলক্ষে রোববার রাসমেলা ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে ভাষণ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে রাজ্যটিতে বিজেপির নির্বাচনী তৎপরতার সূচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র। মোদি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এবার নিরপেক্ষ ও পরিবর্তনের ভোট হবে। এ সময় নির্বাচন কমিশনের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার কথাও জানান তিনি।
রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোচবিহার জেলার ৯টি বিধানসভা আসনকে কেন্দ্র করে বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেসসহ প্রধান দলগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে এ জেলার ৯টির মধ্যে আটটি আসনে জয় পেয়েছিল বিজেপি। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলটির নেতা নিশীথ প্রামাণিক পরাজিত হন।
এদিকে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, মালদা জেলার মোথাবাড়িতে বিচারিক কর্মকর্তাদের ঘেরাওয়ের ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অভিযুক্তরা ধরা পড়েনি; বরং তদন্তের নামে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।
শনিবার মালদায় এক জনসভায় তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে হলে মালদায় আসতে হবে। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে লাখো মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করা হয়েছে। জনগণের ক্ষোভের জবাব দিতে হলে বিজেপিকে মানুষের কাছেই জবাবদিহি করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটির প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের নাম যাচাই (অ্যাডজুডিকেশন) প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৬৩ লাখের বেশি নাম চূড়ান্তভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়া ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, বিচারিক কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ঘেরাওয়ের ঘটনা বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার একটি ‘স্পষ্ট প্রচেষ্টা’।
এমন পরিস্থিতিতে বিজেপি তাদের নির্বাচনী কৌশল স্পষ্ট করেছে। দলটির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য কোনো প্রার্থী ঘোষণা করা হবে না। বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়ন ভাবনা ও নেতৃত্বের ওপর ভিত্তি করেই ভোট চাওয়া হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনটি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে দেখছে বিজেপি। দলটি ক্ষমতায় এলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সহিংসতা রোধ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ভোরের আকাশ/আ.র